বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যকার সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নৃতাত্ত্বিক আর্মেনীয় ও আজেরি বাহিনীর মধ্যকার এই সংঘাতকে বুধবার (৭ অক্টোবর) বিপর্যয় আখ্যা দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, পার্বত্য উপত্যকাটির সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে মস্কো উদ্বেগে রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভেতরে হলেও আর্মেনিয়া সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। ২০১৬ সালের শুরুতে আবার সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ। সর্বশেষ পুরনো সংঘাত ২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে। গত দশ দিনের সংঘাতে আর্মেনীয় সেনাদের মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯১ জনে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘এই (সংঘাত) একটা বিপর্যয়। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা আশা করি খুব দ্রুত এই সংঘাতের অবসান ঘটবে।’
যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও রাশিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি মধ্যস্থতাকারী গ্রুপ নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলের সংঘাতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও যুদ্ধরত পক্ষগুলো তাতে রাজি হয়নি। এছাড়া আর্মেনিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে রাশিয়ার। দেশটিতে মোতায়েন রয়েছে রুশ সেনা ও যুদ্ধবিমান। তবে ওই চুক্তি নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলের জন্য কার্যকর নয়।
পুতিন বলেন, ‘এই সংঘাত আজ পর্যন্ত চলা আমাদের জন্য গভীর অনুতাপের। আর এই সংঘাত চলছে আর্মেনিয়ার সীমানার বাইরে। চুক্তির বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে রাশিয়া সবসময়ই তা মান্য করে এসেছে আর ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।’
সংঘাত নিয়ে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান পুতিন।