অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় সশস্ত্র বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় চালানো এ হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১৫ জন। মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে হতাহতের এ সংখ্যা জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামের।
সন্দেহভাজন এক হামলাকারী গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। একজন আটক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামের জানিয়েছেন, আরও এক হামলাকারীকে এখনও খুঁজছে পুলিশ।
দেশটির চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কুর্জ এ ঘটনাকে 'ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলা' আখ্যায়িত করেছেন।
ভিয়েনায় ইহুদিদের প্রধান প্রার্থনাকেন্দ্রের কাছে গুলির ঘটনা ঘটলেও হামলাকারীদের টার্গেট সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শহরের মেয়র মিখাইল লুডভিগ জানাচ্ছেন, নিহতদের একজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহত একজন নারী মারা যান হাসপাতালে নেওয়ার পর। আহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তাও আছে। এছাড়া এ ঘটনায় হাসপাতালে নেওয়া অন্যদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা মারাত্মক বলে জানা গেছে।
করোনাভাইরাস বিস্তার ঠেকাতে দেশতে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকরের কয়েক ঘণ্টা আগে এ হামলার ঘটনা ঘটলো।
অনেক মানুষই তখন পানশালা ও রেস্তোরাঁয় ছিলেন যা এখন থেকে নভেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপের নেতারা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
হামলা সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে?
পুলিশ বলছে, ঘটনাটির সূত্রপাত হয়েছে ইহুদিদের একটি সিনাগগের কাছে যা শহরে ইহুদিদের প্রধান উপাসনালয় হিসেবে পরিচিত। ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতা ওসকার ডাচ টুইট করে বলেছেন, স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে হামলা শুরুর সময় সিনাগগটি বন্ধ ছিল। তবে ক্রনেন যেইটাং নামে একটি পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, সিনাগগ প্রহরার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে এটি এখনও পরিষ্কার নয় যে কতজন হামলাকারী এ হামলায় অংশ নিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়া ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনা গেছে ও এবং রাস্তায় লোকজনকে দৌড়াতে দেখা গেছে।
গুলি শুরুর সময় কাছেই একটি রেস্তোরাঁয় ছিলেন ক্রিস ঝাও। বিবিসিকে তিনি বলছেন, ‘আমরা আতশবাজির মতো কিছু শব্দ শুনছিলাম। ২০-৩০ টি শোনার পর ভাবলাম বন্দুকের গুলি। এরপর আমরা অ্যাম্বুলেন্স দেখলাম। কাছেই রাস্তায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখেছি।’
এ ঘটনার পর বড় ধরনের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এলাকাবাসীকে ওই এলাকা এড়িয়ে যেতে ও গণপরিবহন ব্যবহার না করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
পার্শ্ববর্তী দেশ চেক প্রজাতন্ত্রের পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীরা যাতে সীমান্ত পাড়ি দিতে না পারে সেজন্য সীমান্তে তল্লাশি শুরু করেছে অস্ট্রিয়া। সূত্র: বিবিসি।