আর্মেনিয়াকে আরও সময় দিলো আজারবাইজান

যুদ্ধ বন্ধে ত্রিদেশীয় চুক্তিতে আর্মেনিয়াকে কারাবাখের বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ আজারবাইজানের হাতে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সব এলাকায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আর্মেনিয়াকে আরও ১০ দিনের সময় দিয়েছে আজারবাইজান। এ সময়ের মধ্যে আর্মেনিয়াকে দখলকৃত আজেরি এলাকা ছাড়তে হবে।

নাগোরনো-কারাবাখ আজারবাইজানের অংশ। কিন্তু সেখানে বসবাস ছিল আর্মেনীয় জনগোষ্ঠীর মানুষদের। সেখানে নিজেদের বিচ্ছিন্নতাবাদী সরকারও প্রতিষ্ঠা করেছিল তারা। সম্প্রতি তারই জেরে ছয় সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ হয়েছে সেখানে। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে আর্মেনিয়া পর্যুদস্ত হয়ে পড়লে রাশিয়ার হস্তক্ষেপে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আর্মেনিয়ার দাবি, ওই চুক্তির ফলে আজারবাইজানের লাভ হয়েছে। আর্মেনিয়াকে বঞ্চিত করা হয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধে যে জায়গায় যে অবস্থান করছে, আপাতত তারা সেখানেই থাকবে। স্বাভাবিকভাবে তাতে লাভবান হয়েছে আজেরি ফৌজ। কেননা, বহু বছর ধরে কারাবাখের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হয়েছিল আর্মেনিয়া। তবে এবারের যুদ্ধে তুরস্কের সমর্থনে আজারবাইজান এগিয়ে যাওয়ায় দৃশ্যপট বদলে যায়। কারাবাখে নিজেদের দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে বাধ্য হয় আর্মেনিয়া।

শান্তিচুক্তির পর বিভিন্ন এলাকা থেকে আর্মেনিয়ার সেনা এবং সাধারণ মানুষকে ফিরে যাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় দিয়েছিল আজারবাইজান। ১৫ নভেম্বর তা শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও সবাই এলাকা ছাড়তে পারেননি। ফলে তাদের আরও ১০ দিন সময় দিয়েছে আজারবাইজান।

রবিবার আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ জানিয়েছেন, অধিকাংশ এলাকাই পাহাড়ি। আবহাওয়া ভালো নয়। যাতায়াতের রাস্তাও ভালো নয়। এসব কিছু বিবেচনা নিয়ে আর্মেনিয়াকে আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক যুদ্ধের ভয়াবহতায় কারাবাখে যেন এখন শ্মশানের স্তব্ধতা। পাহাড়ের গায়ে যে দিকেই তাকানো যায়, কালো ধোঁয়া যেন ঢেকে রেখেছে আকাশ। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নিয়ে আর্মেনিয়ার পথে হাঁটছেন বহু মানুষ। কারাবাখে নিজেদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে তারা চলে যাচ্ছেন আর্মেনিয়ায়, নতুন ঘরের সন্ধানে। সূত্র: ডিডব্লিউ, রয়টার্স।