তুরস্কের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তিনি বলেছেন, গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্ক যেসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন। ফ্রান্সের পত্রিকা লে ফিগারো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন পম্পেও।
তুরস্কের সামরিক পৃষ্ঠপোষকতায় সম্প্রতি কারাবাখ যুদ্ধে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য পায় আজারবাইজান। বহু বছর পর নিজ দেশের ভূখণ্ড কারাবাখ পুনরুদ্ধারে সফল হয় আজেরি বাহিনী। কারাবাখ যুদ্ধে আর্মেনিয়ার পক্ষ নিয়েছিল ফ্রান্স। তবে শেষ পর্যন্ত আজেরি ফৌজের জয় স্বভাবতই প্যারিসের জন্য সুখকর ছিল না। লিবিয়াতেও বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাফতার বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসছে ফ্রান্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে সেখানেও তুরস্কের সমর্থন নিয়ে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাতীয় ঐকমত্যের সরকার। ফ্রান্সে মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের ঘটনায় তুরস্ক ও ফ্রান্সের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নতুন রূপ নেয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলে তার তীব্র সমালোচনা করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এরদোয়ান বলেন, ইসলামের প্রতি এমন মানসিকতার জন্য ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা দরকার। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের সম্পর্কে উত্তাপ বিরাজ করছে।
কারাবাখ যুদ্ধ, লিবিয়া পরিস্থিতি ও ভূমধ্যসাগরের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রতি ইঙ্গিত করে পম্পেও বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং আমি এ ব্যাপারে একমত যে, তুরস্কের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড খুবই আক্রমণাত্মক। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যে মানুষের কোনও স্বার্থ নেই সেই বিষয়টি এরদোয়ানকে অনুধাবন করাতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুরস্কের সামরিক সক্ষমতার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার উদ্বেগজনক।
আঙ্কারার কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ জানালেও তুরস্কের ইরকিরলিক বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি পম্পেও।