ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন প্রবর্তিত কৃষি আইনের ফলে কৃষকদের আয় বাড়বে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে চালু করা ওই আইনের কারণে কৃষি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনবে, কৃষকদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হবে আর তারা নতুন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ থেকে লাভবান হবে। শনিবার ভারতীয় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ৯৩তম বার্ষিক কনভেনশনে এই মন্তব্য করেন। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভারত সরকারের নতুন চালু করা তিনটি কৃষি আইনের প্রতিবাদে দিল্লি ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছে দেশটির লাখ লাখ কৃষক। আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে সমঝোতা করতে মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সরাসরি আলোচনায় বসেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে এরপরও কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি। সরকার তিনটি বিতর্কিত আইন প্রত্যাহারের ব্যাপারে রাজি না হওয়ায় অনড় থাকেন কৃষক নেতারা। এর জেরে বুধবার (৯ ডিসেম্বর) মোদি সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে কৃষক নেতাদের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা বাতিল হয়ে যায়।
আন্দোলনরত কৃষকদের আশ্বস্ত করার উদ্দেশে শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘একটি সেক্টর যখন বাড়তে থাকে তখন এর প্রভাব আরও কয়েকটি সেক্টরের ওপর পড়তে দেখা যায়। তিনি বলেন, কিন্তু কল্পনা করুন যখন শিল্পগুলোর মধ্যে অহেতুক বাধা তৈরি করা হবে তখন কী হবে। আশানুরুপ কোনও শিল্পই দ্রুত বাড়বে না।’
সেপ্টেম্বর থেকে চালু করা বিতর্কিত কৃষি আইনের দিকে ইঙ্গিত করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘কৃষি এবং এর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত যেমন কৃষি অবকাঠামো, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুতসহ নানা ধরনের বাধা দেখা যায়। এখন এসব বাধা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব সংস্কার কৃষকদের নতুন বাজার, প্রযুক্তির সুবিধা দেবে আর বিনিয়োগ আনতে সাহায্য করবে। আর এসব থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে আমার দেশের কৃষক।’
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারতের অর্থনীতিতে এই মুহূর্তে বিভিন্ন শিল্পখাতের মধ্যে বাধা নয় বরং একে অপরের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা দরকার, যাতে করে তারা পরস্পরকে সহায়তা দিতে পারে।
ভারতের গ্রাম ও ছোট শহরগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন ২১ শতকের উন্নয়ন এসব অঞ্চল থেকেই আসবে। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেসরকারি খাত এখন পর্যন্ত কৃষির ওপর পর্যাপ্ত পরিমাণ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, কৃষকরা এখন চাইলে যেকোনও জায়গায় তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো কৃষকদের আয় বাড়ানো।
উল্লেখ্য, মোদি সরকার সম্প্রতি কৃষি আইনে বদল করে করপোরেট চাষ ও কৃষকদের কাছ থেকে যত খুশি ফসল কেনার অনমুতি দিয়েছে। করপোরেশনগুলি কৃষকদের আগাম টাকা দিয়ে কী চাষ করতে হবে সেটাও বলে দিতে পারবে। কৃষকদের ধারণা, এর ফলে তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে। তারা শেষ পর্যন্ত করপোরেশনের দাসে পরিণত হবেন। সুবিধা হবে বড় সংস্থাগুলির। কয়েক বছরের মধ্যে কৃষিতে তাদের মনোপলি প্রতিষ্ঠা হবে।