ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, তার সরকারের কোনও ধর্মীয় পক্ষপাত নেই। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার সব ধর্ম ও শ্রেণীর মানুষের জন্য কাজ করছে। প্রশ্ন যখন জাতির অগ্রগতি তখন মতাদর্শিক ভিন্নতা অবশ্যই দ্বিতীয় স্থানে রাখতে হবে। আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার মোদি বলেন, জাতি আজ এমন রাস্তায় রয়েছে যেখানে ধর্ম-মত নির্বিশেষে সব মানুষের সাংবিধানিক অধিকার অর্জিত হবে, কোনও সম্প্রদায় পিছিয়ে থাকবে না। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভারতের প্রাক-স্বাধীনতা যুগে মোহাম্মাদান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ ১৯২০ সালে ১ ডিসেম্বর আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ওই বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। কালক্রমে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এএমইউ’র শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ ছাড়াও ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নরেন্দ্র মোদি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য তার সরকারের সব প্রকল্পই কোনও ধর্মীয় পক্ষপাত ছাড়াই সব জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দেশ এমন পথে এগুচ্ছে যেখানে সব নাগরিক কোনও পক্ষপাত ছাড়াই উন্নয়নের সুবিধা পাচ্ছে। আমরা এমন পথে এগুচ্ছি যেখানে কেউ ধর্মের কারণে পিছিয়ে থাকবে না আর প্রত্যেকেই তার স্বপ্ন পূরণের সক্ষম হবে।’
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমরা যে ধর্মেই জন্ম নেই না কেন জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে কিভাবে তা খাপ খাওয়ানো যায় তা লক্ষ্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে মতাদর্শিক ভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু জাতীয় উন্নয়নের প্রশ্ন উঠলেই সবকিছুকেই দ্বিতীয় স্থানে পাঠাতে হবে।’ তিনি বলেন আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী জন্ম দিয়েছে। মতাদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও তারা স্বাধীনতার প্রশ্নে সবকিছুকে পাশে সরিয়ে রেখেছিলেন বলে জানান মোদি।
উল্লেখ্য, বিগত পাঁচ দশকের মধ্যে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। ১৯৬৪ সালে সর্বশেষ লাল বাহাদুর শাস্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তার আগে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু চার বার বিশ্ববিদ্যালয়টি সফর করেন।