ভারতের নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত হাজার হাজার কৃষকের কালো পতাকা প্রদর্শনের মুখে নির্ধারিত জনসভায় যোগ দিতে রওনা দিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহার লাল খাট্টার। মঙ্গলবার আম্বালায় এক জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার কথা ছিলো তার। তবে বিক্ষোভরত কৃষকেরা তার বহর আটকে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকলে পুলিশ তাকে যাত্রা বাতিলের পরামর্শ দেয়। পরে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য হন। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভারতে গত সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে টানা অবস্থান নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে বিক্ষোভ করছে দেশটির লাখ লাখ কৃষক। কৃষক ও সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচ দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তাতে সংকট নিরসন হয়নি। সরকার আইন সংস্কারের প্রস্তাব কৃষকেরা প্রত্যাখ্যান করেছে। আইন বাতিলের দাবিতে অনড় রয়েছে তারা।
হরিয়ানার বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দাবি, সামান্য কিছু কৃষক নতুন আইন নিয়ে খুশি নয়। তবে দিল্লি সীমান্তে প্রতিদিনই বাড়ছে বিক্ষোভকারী কৃষকের সংখ্যা। তীব্র শীত উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়ে এসব কৃষক পাঞ্জাব, হরিয়ানাসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে জড়ো হচ্ছে।
মঙ্গলবার হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহার লাল খাট্টার আম্বালায় এক জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য রওনা দেন। তবে তার গাড়িবহর আটকানোর চেষ্টা করে হাজার হাজার কৃষক। কলো পতাকা ও লাঠি প্রদর্শন করে বহু কৃষক। বিপুল সংখ্যক কৃষকের কারণে প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িবহর ধীরে চলতে বাধ্য হয়। পরে তা উল্টো ঘুরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
উল্লেখ্য, ভারত সরকার সম্প্রতি কৃষি আইনে বদল করে করপোরেট চাষ ও কৃষকদের কাছ থেকে যত খুশি ফসল কেনার অনমুতি দিয়েছে। করপোরেশনগুলি কৃষকদের আগাম টাকা দিয়ে কী চাষ করতে হবে সেটাও বলে দিতে পারবে। কৃষকদের ধারণা, এর ফলে তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে। তারা শেষ পর্যন্ত করপোরেশনের দাসে পরিণত হবেন। সুবিধা হবে বড় সংস্থাগুলির। কয়েক বছরের মধ্যে কৃষিতে তাদের একচেটিয়া বাজার প্রতিষ্ঠা হবে।