লাতিন আমেরিকায় পৌঁছালো অনুমোদিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের প্রথম চালান। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফাইজার টিকার চালানটি পৌঁছায় এ অঞ্চলের দেশ মেক্সিকোতে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এপি।
ভিআইপি মর্যাদায় দেশটিতে পৌঁছায় টিকা বহনকারী ফ্লাইটটি। এ সময় রানওয়েতে মেক্সিকোর পতাকা উড়তে দেখা যায়। এক ঝাঁক টিভি ক্যামেরার সামনে চালানটি গ্রহণ করতে সেখানে হাজির হন মন্ত্রী পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ডিএইচএল-এর একটি ফ্লাইটে চালানটি মেক্সিকো সিটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। একজন গ্রাউন্ড ক্রু ফাইজার ও বায়োএনটেক-এর উৎপাদিত আল্ট্রা-কোল্ড ভ্যাকসিনের প্রথম ব্যাচটি বিমান থেকে নামিয়ে আনেন।
টিকা বহনকারী ফ্লাইট থেকে নেমে মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো এবরার্ড বলেন, আজ মহামারী শেষ হওয়ার সূচনা হলো।
বৃহস্পতিবার থেকে মেক্সিকো সিটি এবং উত্তরের শহর সালটিলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রথম ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ সপ্তাহেই লাতিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশে ফাইজারের টিকার চালান পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এই অঞ্চলের আরেক প্রান্তের দেশ আর্জেন্টিনা এরইমধ্যে দুইটি ভ্যাকসিন অনুমোদনের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে একটি রুশ ভ্যাকসিন এবং অন্যটি সংগ্রহের ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও চুক্তি হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এরইমধ্যে করোনাভাইরাসের দুইটি করে টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুই দেশেই প্রথমে ফাইজার ও পরে মডার্নার টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয় কর্তৃপক্ষ।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। এক পর্যায়ে উৎপত্তিস্থল চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশে এর প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে আশার কথা হচ্ছে, এখন আক্রান্তের পর সুস্থ হওয়ার হার দ্রুত বাড়ছে। এরইমধ্যে করোনার একাধিক টিকাও আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ করে ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না ও অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে এরইমধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।