স্থানীয় টিকা অনুমোদনে ভারতের ‘‌বিপজ্জনক তাড়াহুড়ো’

ভারত সরকারের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে তৈরি করোনাভাইরাসের একটি টিকা তাড়াহুড়ো করে অনুমোদনের অভিযোগ করেছে দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটি বলছে, এভাবে টিকা অনুমোদন বিপজ্জনক হতে পারে।

কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেছেন, কোভ্যাক্সিন নামের ওই টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সংক্রান্ত উপাত্ত তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের মাধ্যমে পুরোপুরি পর্যালোচনা করে দেখা হয়নি। অথচ এটি অপরিহার্য। 'ঝুঁকিপূর্ণ' এ টিকা প্রয়োগ না করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের সাবেক মন্ত্রী শশী থারুর। তিনি বলেন, আগেভাগেই এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এটি বিপজ্জনক হতে পারে। তিনি এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।

এর আগে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে ভারত-বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন এবং অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকা- দুটিই নিরাপদ এবং তা অবিলম্বে ব্যবহার করা যাবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারত-বায়োটেক বা ভারতীয় ওষুধ কর্তৃপক্ষ টিকাটি নিরাপদ বলে জানালেও করোনাভাইরাস ঠেকাতে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেনি। একটি সূত্র অবশ্য রয়টার্সকে জানিয়েছে যে, টিকাটির দুই ডোজ দেওয়ার পর এর কার্যকারিতা ৬০ শতাংশের বেশি হতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার চীন করোনাভাইরাসের যে টিকাটি অনুমোদন করেছে- সেটির ক্ষেত্রেও কার্যকারিতার বিস্তারিত উপাত্ত প্রকাশ করা হয়নি।

কোভ্যাক্সিন নামের টিকাটি ভারতেই আবিষ্কৃত হয়েছে। দেশটির চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থা আইসিএমআরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারত বায়োটেক এই ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে। কোলকাতা থেকে বিবিসি বাংলা-র সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালী জানান, কোভ্যাক্সিন টিকাটির কার্যকারিতার পরীক্ষার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল এখনও চলছে।

মোট ২৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপর তৃতীয় পর্যায়ের এই 'এফিকেসি ট্রায়াল' চলার কথা। কিন্তু গত সপ্তাহ পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবক নথিভুক্ত হয়েছেন ১৩ হাজারের মতো।

এ পর্যন্ত ভারতে দুটি করোনা ভ্যাকসিন জরুরিভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা অনুমোদনের জন্য ছাড়পত্র দেয় ওই বিশেষজ্ঞ কমিটি। অক্সফোর্ডের টিকাটি ভারতে উৎপাদন করছে সিরাম ইন্সটিটিউট। এটি নিরাপদ কিনা তার পরীক্ষা ভারতে এক হাজার ৬০০ মানুষের মধ্যে ট্রায়াল চালানোর কথা ছিল। কিন্তু ঠিক কতজনের ওপর পরীক্ষাটি করা হয়েছে এবং তা থেকে কী বেরিয়ে এসেছে, সেই গোপন তথ্য শুধু বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছেই জমা দিয়েছে সিরাম ইন্সটিটিউট।

এতো কম স্বেচ্ছাসেবকের ওপর পরীক্ষা চালানোর পরেও তারা যে ছাড়পত্র পাওয়ার আবেদন করতে পেরেছে, তার কারণ যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে এটি ছাড়পত্র পেয়েছে এবং সেখানে তারা টিকাটির কার্যকারিতা নিয়ে যে তথ্য যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা দিয়েছে, সেই একই তথ্য তারা প্রমাণ স্বরূপ ভারতেও জমা দিয়েছে। সূত্র: বিবিসি।