পাকিস্তানের সেনা সদর থেকেই পাঠানকোট হামলার পরিকল্পনা!

পাকিস্তানের সেনা সদর থেকেই পাঠানকোট হামলার পরিকল্পনা হয়েছে দাবি করে ভারতের শীর্ষ নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।

পাঠানকোটের হামলা পরবর্তী সেনা অবস্থান

একজন উর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাতে ওই সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাহোর সফর এবং সেই সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের আন্তরিকতায় অবজ্ঞা বোধ করেছে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী মনে করেছে, তাদের উপেক্ষা করেই ভারত-পাকিস্তান শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সে কারণেই হামলার পরিকল্পনা করে তারা।

শনিবার পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুসারে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, হামলাকারীরা গুরুদাসপুরের পুলিশ সুপার সালভিন্দর সিংকে শুক্রবার সকালে সরকারি গাড়িসহ অপহরণ করে। এ সময় আরও দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে হামলাকারীরা। হামলার লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছাতে এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে হামলাকারীরা এসপির সরকারি গাড়িটি ব্যবহার করে। গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, হামলাকারীরা ছিনতাই করা মোবাইল দিয়ে পাকিস্তানে থাকা তাদের নিয়ন্ত্রণকারীদের সঙ্গে কথা বলে। 

পাঠানকোট বিমান ঘাঁটির বাইরে অবস্থান নিয়েছে পুলিশএদিকে রবিবার গোয়েন্দা সূত্রের দাবির বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, যদিও এই মত প্রলচিত রয়েছে যে, ভারত-পাকিস্তান শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই কাজ করে যাচ্ছে, তারপরও মোদির আকস্মিক লাহোর সফরের পর তারা মনে করেছে, এতে পাকিস্তানে সুশীল সমাজ বেসামরিক কায়দায় শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবির বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং  গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তাদের ঘনিস্ট মিত্র লস্কর-ই-তৈয়বাকে আপাতত সরিয়ে রেখেছে এবং তাদের আরেক মিত্র জয়েশ-ই-মোহাম্মদকে পাঠানকোটের হামলায় কাজে লাগিয়েছে। তারা মনে করেছে, পাকিস্তান যে শান্তি প্রক্রিয়ায় আগ্রহী নয়, এরমধ্য দিয়ে সেটা প্রমাণ করা সহজ হবে।
এরআগে শনিবার ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করে, পাঞ্জাবের পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে হামলায় দেশটিতে নিষিদ্ধ জয়েশ-ই-মোহাম্মদ সংগঠনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে তারা। হামলাকারীদের মোবাইল ফোনের কল শনাক্ত করে ভারতীয় গোয়েন্দারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় চিরুনি অভিযানে আরও এক হামলাকারী নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে নিহত হামলাকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ জনে। হামলায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর তিন সদস্যও নিহত হন।

সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বরিবার বলা হয়, ভারতীয় বিমানঘাঁটির প্রাযুক্তিক সম্পদ নষ্ট করা, এবং বাহিনীর অনেক সদস্যকে হত্যা করার উদ্দেশ্য ছিলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর। এরমধ্য দিয়ে তারা ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী ও বিরোধী দলগুলোকে উসকানি দিতে চেয়েছিল, তারা যেন ভারতভারত সরকারের শান্তি প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে, ভারতকে কঠোর হতে বাধ্য করে। পাশাপাশি পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবাদের আক্রান্ত এবং ভারতের মতো আগ্রাসী প্রতিবেশি এবং ভারত-প্রভাবিত আফগানিস্তানের সন্ত্রাস দ্বারা আক্রান্ত সেই প্রচারণাও জোরালো করতে চেয়েছিলো তারা।

পাঞ্জাবের বিমান ঘাঁটির হামলাকারীদের খুঁজতে অভিযানএরআগে শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসপির সঙ্গে অপহৃত গুরুদাসপুরের বাসিন্দা রাজেশ ভার্মা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, হামলাকারীদের সহকর্মী আফজাল গুরুকে ফাঁসি দেওয়ার প্রতিশোধ নিতেই পাঠানকোটে হামলা করা হয়েছে। ভারি অস্ত্রে সজ্জিত উর্দুভাষী হামলাকারী জিপিএস ব্যবহার করছিল। হামলাকারীরা ‘তোমরা আফজাল গুরুকে হত্যা করেছো, আমরা এখন সেই হত্যার প্রতিশোধ নিচ্ছি’ বলে রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করে বলে জানান তিনি। ২০১১ সালে ভারতের পার্লামেন্টে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিহার জেলে ফাঁসি দেওয়া হয় আফজাল গুরুকে।
হিন্দুস্তান টাইমস-এর খবরে বলা হয়, জয়েশ-ই-মোহাম্মদ পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন। এর নেতৃত্বে রয়েছেন মাওলানা মাসুদ আজহার। ১৯৯৯ সালে ১৭৬ জন যাত্রীসহ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনের একটি বিমান অপহরণের পর জিম্মিদের বিনিময়ে মাসুদ আজহারসহ ভারতে গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে মুক্ত করে নিয়ে যায় এ সংগঠন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্থান টাইমস, দ্য হিন্দু
/বিএ/