পাঠানকোটের হামলাকারীরা পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার কাছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত!





nonameপাঞ্জাবের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলাকারীরা পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন দাবি করে সরকারি সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
সোমবার প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পাঠানকোটে হামলাকারীরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
উচ্চ পর্যায়ের এক সরকারি সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দু আরও জানায়, পাঠানকোটে হামলাকারীরা অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত এবং মুম্বাইয়ের ২৬/১১ হামলার চাইতেও বিধ্বংসী।
এদিকে, ভারতের বিমানবাহিনীর এয়ার কমোডোর জে. এস. ডামুন জানিয়েছেন, চিরুনি অভিযান শেষ পর্যায়ের দিকে। বিমানঘাঁটি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযান চলবে।
শনিবার ভোরে পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলার পর এ পর্যন্ত ১২ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়েছে।

noname
রবিবার সন্ধ্যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার অজিত দোভাল, পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর ও অন্যান্যদের সঙ্গে জঙ্গি হামলা বিষয়ে আলোচনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তবে এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান প্রসঙ্গে কূটনৈতিক কৌশলের কোনও নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে না বলেই আশা করা হচ্ছে।
রবিবার এক হামলাকারীর মৃতদেহ স্থানান্তর করতে গিয়ে তার শার্টের পকেটে থাকা গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত হন ভারতের লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিরঞ্জন কুমার। এ ছাড়াও নিরঞ্জনের সঙ্গে থাকা ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের পাঁচ সদস্য আহত হন ওই বিস্ফোরণে।
ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা ও অনুসন্ধানী অভিযানে সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডস, ভারতীয় বিমান বাহিনী, প্যারা-মিলিটারি ফোর্স ও পাঞ্জাব পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে জম্মু, অবন্তীপুর, শ্রীনগর এবং উধমপুরের বিমান ঘাঁটিগুলিতে।
পাঞ্জাবের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেছেন, বিমান ঘাঁটিতে হামলার আগ মুহূর্তে হামলাকারীরা পাকিস্তানের তাদের নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে। এর সূত্র ধরেই হামলায় জয়েশ-ই-মোহাম্মদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তানের এ সন্ত্রাসী সংগঠনের।
/এএ/বিএ/