মিয়ানমারে শনিবার আরও চার বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। একজন বিক্ষোভকারী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাউ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় শহর মনিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়ে তিন জনকে হত্যা করেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর থাটনে আরও একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মনিয়া এলাকার একজন বিক্ষোভকারী বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী মুহূর্মুহূ গুলিবর্ষণ শুরু করলে লোকজন দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে। আমার সামনেই একজনের মাথায় গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এসব হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ এবং সরকারের একজন মুখপাত্রের বক্তব্য জানতে চেয়ে ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর অব্যাহত নিপীড়নের মুখে মিয়ানমারের রাজপথে বড় বিক্ষোভ করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। ফলে জান্তা সরকারের বিরোধিতা করতে অনলাইনে ঝুঁকছে মানুষ। ইন্টারনেট বন্ধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে সেই সমালোচনা বন্ধে ব্যর্থ হয়ে জান্তা সরকার এবার সমালোচকদের বিরুদ্ধে একের পর এক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে শুরু করেছে।
মিয়ানমারের অধিকার রক্ষা গ্রুপ অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল পিজনার্স (এএপিপি) শনিবার জানিয়েছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চি-কে সেনাবাহিনী উৎখাত করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪৬ শিশুসহ ৫৫০ জনকে হত্যা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
অব্যাহত নিপীড়নের মুখেও প্রতিদিনই দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছে অভ্যুত্থানবিরোধীরা। রাজপথে বড় বিক্ষোভ দুঃসাধ্য হয়ে ওঠায় গেরিলা বিক্ষোভের দিকে ঝুঁকছেন তারা। নিরাপত্তা বাহিনী চলে আসার আগেই ছোট ছোট দলে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখছেন তারা। রাতের বেলা মোম জ্বালিয়েও নিয়মিত বিক্ষোভ হচ্ছে।
রাজপথে বড় বিক্ষোভ করতে না পারায় অনলাইনে বেড়েছে সেনা অভ্যুত্থানের বিরোধিতা। আর তা দমন করতে প্রথমেই বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা। তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে শুক্রবার থেকে তারবিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মিয়ানমারের বেশিরভাগ মানুষই এখন ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তবে তাতেও থেমে নেই জান্তা সরকার।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিদ্রোহ এবং কর্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানোয় ১৮ জন সেলিব্রেটি এবং দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
তাদের প্রত্যেকেই সেনা শাসনের বিরোধিতার জন্য পরিচিত মুখ। তাদের একজন অভিনেত্রী পাইং ফিয়ো থু জানিয়েছেন, এতে ভীত হবেন না তিনি। তিনি বলেন, ‘গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হোক বা না হোক, যতক্ষণ বেঁচে আছি ততক্ষণ মানুষ হত্যাকারী এবং নিপীড়নকারী সামরিক স্বৈরশাসনের বিরোধিতা করে যাবো।’