৪১তম স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশের এই অকৃত্রিম বন্ধুকে ‘ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’ খেতাবে ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার। এর বাইরেও মুক্তিযুদ্ধের অবদানের জন্য তিনি অনেক সম্মান লাভ করেছেন। ১৯৭১ সালে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অব স্টাফের দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত করেন।
১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনা করে, তখন প্রাণ ভয়ে আশ্রয়ের খোঁজে ভারতে চলে যেতে থাকে লক্ষ লক্ষ মানুষ। চিফ অফ স্টাফ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যাকব তখন সমস্যা নিরসনের উপায় খুঁজতে থাকেন। অন্যদিকে আরও বাড়তে থাকে পাকিস্তানিদের অত্যাচার। এসব দেখে জ্যাকব তাঁর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে পাকিস্তানিদের সাথে সশস্ত্র যুদ্ধে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
জাতিসংঘ এবং চীনের প্রবল চাপের মুখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণে আপত্তি জানাচ্ছিলেন। কিন্তু জ্যাকব সব ধরনের চাপের ঊর্ধ্বে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে সচেষ্ট ছিলেন। প্রথমেই তিনি ঢাকাকে দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা করেন। এর জন্য তিনি সুচারুভাবে এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে অগ্রসর হন।
তার পরিকল্পনা অবশেষে সফল হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানিদের ঢাকা থেকে হটাতে সফল হয়। দখলের পর তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সকল যোগাযোগ মাধ্যম ধ্বংস করেন। তিনি তিন সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা দখলের পরিকল্পনা করেন, কিন্তু তা হয়ে যায় এক রাতের ভেতরেই।
জ্যাকব বুঝতে পারেন যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো ফলাফল আসবে না। তাই তিনি জেনারেল নিয়াজিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীসহ ১৬ই ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করতে বলেন। তিনি নিয়াজির কাছে আত্মসমর্পণের খসড়া পাঠিয়ে দেন। পাকিস্তান বাহিনী ৩০মিনিট সময়ে এক বিনাচুক্তির আত্মসমর্পণ সম্পন্ন করে। এ নিয়ে ‘স্যারেন্ডার ইন ঢাকা’ শিরোনামে একটি বইও রচনা করেন জ্যাকব।
জ্যাকব ১৯২৩ সালে অবিভক্ত ভারত বর্ষের কলকাতায় জন্ম নেন। লে. জেনারেল জ্যাকবের পূর্ব পুরুষেরা ১৮শতকে বাগদাদ থেকে কলকাতায় আসেন। তারা মূলত ছিলেন ইহুদি ধর্মের অনুসারী।
/বিএ/