ঘটনা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি দু’সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এদিকে আরেক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময় জানিয়েছে এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরও করা হয়েছে। এছাড়া ভিসি আপ্পারাওয়ের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। সকালে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৮ ছাত্রকে গ্রেফতার করে এবং মৃত ওই দলিত গবেষক ছাত্রের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যায়।
ভারতের হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দলিত শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার প্রতিক্রিয়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত ছাত্র রোহিত ভেমুলা ছাত্রাবাসের কক্ষে গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, গত অগস্টের একটি ঘটনায় রোহিত-সহ আরও পাঁচ ছাত্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে স্মৃতি ইরানিকে চিঠি লেখেন দত্তাত্রেয়। আর সেই চিঠির জেরেই তাঁদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দত্তাত্রেয়।
রোহিত ভেমুলা তার আত্মহননের আগে একটি নোট লিখে যান। তাতে তিনি লেখেন, ‘আমার আত্মহত্যার জন্য কারো কোন দায় নেই। কেউ আমাকে উস্কানি দেয়নি। কারো কথা বা কাজের প্রেক্ষিতেও আমি এই সিদ্ধান্ত নিইনি। এই সিদ্ধান্ত একান্তই আমার নিজের এবং আমি নিজেই এর জন্য দায়ী। দয়া করে আমার মৃত্যুর পর আমার বন্ধু ও শত্রুদের কোন বিপদে ফেলবেন না।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৩-এর মুম্বাই হামলার মূল অভিযুক্ত ইয়াকুব মেননের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিশ্ববিদ্যলয় চত্বরে বিক্ষোভ দেখানোর সময় বিজেপি প্রভাবিত ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের অম্বেডকর ইউনিয়নের সদস্য রোহিত ও তাঁর সতীর্থদের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি রোহিতদের ক্লিন চিট দেয়। কিন্তু পরে তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মন্ত্রী দত্তাত্রেয়ই চিঠি লিখে স্মৃতি ইরানিকে জানান ওই বিশ্বাবিদ্যালয় জাতিবাদের আখড়া হয়ে উঠেছে। চরমপন্থী এহং জাতীয়তাবাদ বিরোধী হয়ে উঠেছে ছাত্রছাত্রীদের একাংশ।
এর পরেই গত বছরের ২১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রোহিত-সহ পাঁচ কৃতি ছাত্রকে হোস্টেল থেকে বের করে দেওয়া হয়। হোস্টেল তো বটেই, ক্লাসরুম এবং গবেষণাগার বাদে বিশ্ববিদ্যায়ের অন্যান্য জায়গাতেও তাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। অন্য ছাত্রছাত্রীরা সামাজিকভাবে তাদের বয়কট করতে শুরু করে। হোস্টেল থেকে বার করে দেওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গেটের বাইরে তাঁবু খাটিয়ে গত কয়েক দিন ধরে থাকছিলেন রোহিতরা। এর পরে তাঁরা উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু, উপাচার্য তাঁদের সঙ্গে দেখা করেননি। রোহিতের এক সহপাঠী আনন্দবাজারকে জানান, এই নিয়ে তাঁদের মনে দুঃখ বোধ ছিল। সেটাই আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায় যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দলিত শিক্ষক তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে এসে, দলিত ছাত্রদের পাশে না দাঁড়িয়ে উপাচার্যের পক্ষ নিয়েই কথা বলেন। এর পরেই রোহিতরা ভেঙে পড়ে। সূত্র: স্ক্রল ইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার
/বিএ/