হোস্টেলের বিভিন্ন কক্ষে রক্তের বন্যা। আসবাবগুলো ছড়ানো ছিটানো। দেয়ালে ঝুলানো কাঠের একটি ফলকে লেখা ‘হিরোজ ডাই ইয়াং’। বুধবার (২০ জানুয়ারি) পাকিস্তানের বাছা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার পরে সেখানকার হোস্টেলের চেহারাছবি এমন।
পাকিস্তান পুলিশের তরফে বুধবারের হামলায় ২১ জন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হলেও সে সংখ্যা ৩০ বলে উল্লেখ করে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওইদিনের হামলায় নিহতদের বেশিরভাগই একটি হোস্টেলের আবাসিক শিক্ষার্থী। নিহতদের বেশিরভাগকে ওইদিনই মুসলিম রীতি অনুসরণ করে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহতদের স্মরণে বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি)একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে পাকিস্তান। এ হামলা নতুন করে ২০১৪ সালে পেশাওয়ার স্কুলের হামলায় নিহত শিক্ষার্থীদের স্বজনদের হৃদয়ের ক্ষত জাগিয়ে তুলেছে। নতুন করে শোকে মূহ্যমান হয়েছেন তারা। বাছা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলায় নিহতদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তারা।
‘আমরা তাদের কষ্ট বুঝতে পারি।’ বলেন অজুন খান নামে এক স্বজনহারা। ২০১৪ সালে পেশাওয়ারের স্কুলে হামলায় একমাত্র সন্তানকে হারাতে হয় তাকে। ‘আমরা নিরাপদ নই, এমনকি বাবা-মায়েরাও নিরাপদবোধ করেন না।’ ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন অজুন।
এদিকে বুধবার বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার নিন্দা জানিয়ে একে যুদ্ধাপরাধের সামিল বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকে।
হামলার নিন্দা জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এইসব সন্ত্রাসী চায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিতে।’
দাভোস ফোরামে যোগ দিতে বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। সেখান থেকে ব্যক্তিগতভাবে তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন উল্লেখ করে এক বিবৃতি দিয়েছেন। নওয়াজ বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ।’
বুধবার সকালে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার চারসাদ্দায় অবস্থিত বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন ৪ বন্দুকধারী। পেশাওয়ার হামলার মূল হোতা ওমর মনসুর এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে দাবি করেছেন, তেহরিক ই তালেবান, পাকিস্তানের তরফে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে তালেবানের এক মুখপাত্র তা অস্বীকার করে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা এর সঙ্গে তালেবানকে জড়াচ্ছে, তাদের বিচারের আওতায় নেওয়া হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ডন
/এফইউ/বিএ/