আফগানিস্তান থেকে তেহরিক ই তালেবানের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা: পাকিস্তান

তেহরিক ই তালেবানের একাংশের নির্দেশনায় পাখতুনখোয়ার বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। তাদের দাবি, এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আফগানিস্তান থেকে। ঘটনায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পাকিস্তান।  

এই ঘটনা নিয়ে এরইমধ্যে আফগানিস্তানের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করেছে পাকিস্তান। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন নিউজের খবরে এসব কথা জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, হামলায় জড়িত তেহরিক ই তালেবানের একাংশ আফগানিস্তান থেকে হামলার নির্দেশনা দিয়েছে এবং এ সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য কাবুলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী

ডন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি, প্রধান নির্বাহী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ, এবং আফগানিস্তানে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর জেনারেল জন ক্যাম্পবেলকে ফোন করে আফগানিস্তান থেকে নির্দেশনা দিয়ে হামলা পরিচালনার কথা জানান। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তাদের জানিয়েছেন, আফগাননিয়ন্ত্রিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই যে হামলাটি পরিচালনা করা হয়েছে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে ইসলামাবাদের হাতে। টেলিফোনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, হামলার হোতাদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।

এরআগে এক টুইটার বার্তায় পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র লে. জেনারেল অসীম বাজওয়া দাবি করেন, এখনও পর্যন্ত তদন্ত যে পর্যন্ত এগিয়েছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে আফগানিস্তানের একটি সেল ফোন নাম্বার ব্যবহার করে তেহরিক ই তালেবানের নির্দেশনায় এই হামলা চালোনো হয়েছে।

ঘটনার পর বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, রক্তক্ষয়ী ওই হামলা আফগানিস্তান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, হামলার সময় সন্ত্রাসীরা টেলিফোনে তাদের নিয়ন্ত্রণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছিল। এসব হোতাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বুধবার সকালে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার চারসাদ্দায় অবস্থিত বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন ৪ বন্দুকধারী। পেশাওয়ার হামলার মূল হোতা ওমর মনসুর এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে দাবি করেছেন, তেহরিক ই তালেবান, পাকিস্তানের তরফে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে তালেবানের এক মুখপাত্র তা অস্বীকার করে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা এর সঙ্গে তালেবানকে জড়াচ্ছে, তাদের বিচারের আওতায় নেওয়া হবে। সূত্র: ডন

/বিএ/