তারপর থেকে আরানথোডুর জঙ্গলের পাশেই তার গাড়ির ভেতর বসবাস শুরু করেন চন্দ্রশেখর গৌড়। ৪৩ বছর বয়সী চন্দ্রশেখরের দিন চলে ঝুড়ি বুনে। এক একটি ঝুড়ি বিক্রি হয় মাত্র ৪০ রুপিতে। সমাজের সঙ্গে বিশেষ কোনও সম্পর্ক রাখেননি তিনি।
দক্ষিণ কন্নড় প্রশাসনের তরফে চন্দ্রশেখরকে সাহায্য করার অনেক চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তিনি কোনও রকম সাহায্য নিতে রাজি হননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে বিষয়টি জানতে পেরে চন্দ্রশেখরের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন ডেপুটি কমিশনার এ বি ইব্রাহিম। তিনি জানিয়েছেন, চন্দ্রশেখর তাকে কথা দিয়েছেন, আবার জীবনের মূল স্রোতে তিনি ফিরে আসবেন। তিনি যাতে ভবিষ্যতে ভালো থাকেন তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতেও রাজি প্রশাসন। এ বি ইব্রাহিম জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
১৯৯৯ সালে চাষের জন্যে চন্দ্রশেখর ৫৪ হাজার টাকার একটি স্বল্পমেয়াদী ঋণ নিয়েছিলেন নেল্লুর কেমরাজে কো-অপারেটিভ সোসাইটি থেকে। কিন্তু ঋণের টাকা ফেরত দেওয়ার অবস্থায় না থাকায় কো-অপারেটিভ সোসাইটি থেকে তাকে একটি নোটিস পাঠিয়ে ২০০২ সালের অক্টোবর মাসে তার চাষের জমি নিলাম করে দেওয়া হয় ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে। ঋণের টাকা সুদে আসলে উসুল করে নেওয়ার পর বাকি ১১ হাজার টাকা আলাদা করে রেখে দেওয়া হয় চন্দ্রশেখরের জন্যে। কিন্তু সেই টাকা নিতে কোনও দিন ফিরে আসেননি তিনি।
নিলামের পর কিছুদিন বোনের সঙ্গে ছিলেন চন্দ্রশেখর। পরে একটি ব্যবহৃত ফিয়াট গাড়ি কেনেন। ২০০৩ সালের জুন মাসে তার বাড়িও ভেঙে ফেলা হয়। সেই থেকেই জঙ্গলের কাছে গাড়িতেই বসবাস শুরু করেন তিনি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।