জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপিপন্থী (ভারতীয় জনতা পার্টি) ছাত্র সংগঠন অখিল ভারত বিদ্যার্থী পরিষদের তিন নেতা পদত্যাগ করেছেন। বুধবার জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের প্রেসিডেন্ট গ্রেফতার ও হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যার বিষয়ে পার্টির অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা। ফেসবুকে প্রকাশিত এক চিঠিতে পদত্যাগের কারণও জানিয়েছেন তারা।
অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ(এবিভিপি) এর যুগ্ম সম্পাদক প্রদীপ নরওয়াল তার ফেসবুক পেইজে তার পদত্যাগপত্রটি প্রকাশ করেন। তার সঙ্গে সঙ্গে রাহুল যাদব ও অঙ্কিত হানসও প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি পদ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তাদের পদত্যাগের ঘটনা একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম। প্রদীপ তার ফেসবুক পেইজে বলেন, ‘যে সরকার ছাত্র সমাজকে এভাবে দমিত করে আমরা সেই সরকারের মুখপাত্র হতে চাই না।’
ফেসবুকে প্রকাশিত তাদের চিঠিটিতে বলা হয়-
প্রিয় বন্ধুরা,
আমরা, প্রদীপ যুগ্ম সম্পাদক, এবিভিপি জেএনইউ শাখা, রাহুল যাদব, এসএসএস এবিভিপি শাখা এবং আঙ্কিত হানস, সেক্রেটারি এসএসএস এবিভিপি শাখা, পদত্যাগ করছি ও এবিভিপির যে কোন কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। এর কারণগুলো হলো
১ – জেএনইউএর সাম্প্রতিক ঘটনা
২ – মনুস্মৃতি ও রোহিত ভেমুলার ঘটনায় দীর্ঘমেয়াদী দ্বিমত
গত ৯ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেওয়ার ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক। যে বা যারা এর জন্যে দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যেভাবে এনডিএ সরকার পুরো ইস্যুটা মোকাবেলা করছে, অধ্যাপকদের ওপর দমন পীড়ন চালাচ্ছে, আইনজীবী ও গণমাধ্যম কানহাইয়া কুমারকে আদালতে বারংবার আক্রমণাত্মক জেরা চালাচ্ছেন তা একেবারেই যথাযথ নয়। এ সমস্ত কাজের সঙ্গে আমরা একমত নই। আমরা মনে করি তদন্ত চালানো আর আদর্শিক অবস্থানকে আঘাত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
মানুষ হ্যাশট্যাগ দিয়ে শাটডাউনজেএনইউ প্রচার করছে। কিন্তু প্রচার করা উচিত #শাটডাউনজিনিউজ। জিনিউজ আন্তর্জাতিক মানের এই প্রতিষ্ঠানকে অবমাননা করেছে। গুটিকয় মানুষের কার্যকলাপকে সাধারণীকরণ করে জেএনইউ-এর সকল ছাত্রের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়েছে। জেএনইউ একটি প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত, এখানে শ্রেণি পরিচয় নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে মানুষকে মূল্যায়ন করা হয়।
যে সরকার ছাত্র সমাজের ওপর এমন দমন-পীড়ন চালায়, ওপি শর্মার মত আইনসভার সভ্য, সরকারের স্বৈরাচারী আচরণে মদদ দেয় আমরা তার মুখপাত্র হতে চাই না। আমরা প্রতিদিন ভারতীয় পতাকা হাতে মানুষকে জেএনইউ ছাত্রদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখি, এটা রাহাজানি, জাতীয়তাবাদ নয়।
ভারতবিরোধী শ্লোগান শুধু ক্যাম্পাসে কেন, দেশের কোথাও সহ্য করা হবে না। জেএনইউ ছাত্র সংগঠন ও কিছু বামপন্থী সংগঠন দাবি করছে, ক্যাম্পাসে কিছুই ঘটেনি। কিন্তু আমরা চাই ওই মুখোশধারী ব্যক্তিদের পরিচয় উন্মোচিত হোক। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে, ভিডিও রয়েছে। তার আমাদের দাবি, যারাই রাষ্ট্রবিরোধী শ্লোগানের জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা গণমাধ্যমের জেএনইউ বিরোধী হঠকারী ভূমিকার বিরুদ্ধেও যথাযথ পদক্ষেপ দেখতে চাই। জেএনইউকে বাঁচাতে আজ আমাদের সকলকে একযোগে দাঁড়াতে হবে। দলমত নির্বিশেষে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীই কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। আসুন আমরা জেএনইউ সংস্কৃতিকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ হই। সূত্রঃ স্ক্রল.ইন
/ইউআর/বিএ/