বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘যদিও চীন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধির অর্থনীতির দেশ, তারপরও ভারত বিশ্ব অর্থনীতি কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
সে সময় ভারতের খাদ্য নিরাপত্তায় প্রধান ভূমিকা পালন করায় দেশটির ১২ কোটি কৃষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অরুণ জেটলি বলেন, ‘আমাদের আয়ের নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই কৃষেকের কাছে যেতে হবে।’ তিনি জানান, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য এবারের বাজেটে ১২ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
এবারের বাজেটে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৮৯টি প্রকল্প, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছাতে গ্রামীণ সড়কের উন্নয়নে বিনিয়োগ দ্বিগুণ করা, লাখ লাখ বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ এবং গ্রামের অবহেলিত নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ফান্ড গঠন করার প্রস্তাব রয়েছে। বাজেটে গ্রামীণ অর্থনীতি, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক খাতে ব্যয় বাড়ানোকে আসন্ন অঙ্গরাজ্য নির্বাচনে দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর কৌশল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাজেটে গ্রামে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শস্য বীমা প্রকল্প চালু এবং গ্রামে ইন্টারনেট সুবিধা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আর আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সব গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। তিনি অঙ্গীকার করেন, ‘গত বছরের ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ বাজেট ঘাটতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর মোদি সরকার কর ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার ও অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, আনন্দবাজার
/এসএনএইচ/বিএ/