সু চিকে ঠেকাতে এক সপ্তাহ আগেই প্রেসিডেন্ট নিয়োগের ভোটাভুটি!

অং সান সু চিমিয়ানমারে নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিতে পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ ও নিম্ন কক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভোট পূর্বনির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক সপ্তাহ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। আসছে ১০ই মার্চ মিয়ানমারের পার্লামেন্ট সদস্যরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে ১৭ মার্চ ভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে সু চি’র দায়িত্ব গ্রহণের ব্যাপারে সাংবিধানিকভাবে যে বাধা রয়েছে তা সংশোধন নিয়ে আলোচনার সমাপ্তি ঘটাতেই নির্বাচন এগিয়ে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত নভেম্বরে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় অং সান সু চি’র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)। চলতি মাসের শেষে মিয়ানমারের নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে।
পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে সু চি’র আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, কোনও বিদেশিকে বিয়ে করলে বা সন্তানদের কেউ অন্য দেশের নাগরিক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। সু চি’র স্বামী মাইকেল অ্যারিস ছিলেন একজন ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ। তার দুই সন্তানও ব্রিটিশ নাগরিক। তবে সু চি’র দাবি, যাই হোক না কেন, তিনি ফলপ্রসূভাবে দেশের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।

সংবিধানে পরিবর্তন আনা নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে এনএলডি’র আলোচনার সময় দিয়ে ১৭ মার্চ প্রেসিডেন্ট নিয়োগের জন্য ভোটাভুটির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। নিজস্ব প্রতিনিধির বরাতে বিবিসি জানায়,  সু চি এবং আর্মি কমান্ডার ইন চিফের মধ্যে এ পর্যন্ত যতগুলো বৈঠক হয়েছে তাতে সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।  আর তাই ভোটাভুটির তারিখ এগিয়ে মূলত আলোচনার দ্বার বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সু চি’র দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও দেশটির পার্লামেন্টে সেনাবাহিনীর প্রভাব থাকছে। কারণ তাদের জন্য ১৬৬টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও থাকছে তাদের হাতে।

আসছে ১০ মার্চ তিনজন প্রার্থী থেকে দেশের প্রেসিডেন্টকে বেছে নেবেন পার্লামেন্ট সদস্যরা। পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ ও নিম্ন কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৬২ সাল থেকে মিয়ানমারের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এ সময়ের মধ্যে জান্তা সরকারের রোষানলে ১৫ বছর সু চি’কে গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাতে হয়েছে। গত ২০ বছর ধরে মিয়ানমারে সু চি’র দলকে সরকারের প্রতিপক্ষ মনে করা হতো। এ সময়ে দলটির বহু নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সময়ের পরিবর্তনে পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। সূত্র: বিবিসি

/এফইউ/