যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি অব্যাহত রাখবেন। পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের হাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখার জন্য পাশ্ববর্তী দেশ আফগানিস্তান থেকে নিজ দেশের সেনাদের প্রত্যাহার চান না তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে রিপাবিলকান পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিতর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি – আপনাদের (মার্কিন সেনা) কিছু সময়ের জন্য আফগানিস্তানে থাকতে হবে। প্রকৃত কারণটা হলো, আমরা পাকিস্তানের ঠিক পাশেই (আফগানিস্তান) আছি, যেখানে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে।’ ওই পরমাণু অস্ত্রের হাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘পরমাণু অস্ত্রের খেলা সবকিছু পাল্টে দিতে পারে।’
এরআগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ট্রাম্প। সে সময় এক রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আপনাদের (মার্কিনীদের) ভারতের দিকে ঝুঁকতে হবে। আর ভারত পাকিস্তানকে প্রতিহত করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের (ভারতের) নিজেদের পরমাণু অস্ত্র রয়েছে এবং তাদের একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীও রয়েছে। আমি মনে করি – পাকিস্তানকে দমন করতে ভারতের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।’
বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ব্যাপক সমালোচিত এই ধনকুবের। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধের আহ্বান জানানোর পর সারা বিশ্বে সমালোচিত হন তিনি। নিজ দলের নেতারাও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আরেক রিপাবলিকান মনোনয়ন প্রত্যাশী টেড ক্রুজ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীলদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের ভোটে এখনও পর্যন্ত বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যে জিতেছেন ট্রাম্প। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেলিগেট অর্জনেও সক্ষম হয়েছেন তিনি।
তবে গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে সাবেক সিআইএ পরিচালক মাইকেল হেইডেন বলেছিলেন, ট্রাম্প যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বন্দীদের ওপর নির্যাতন চালানোর বা সন্ত্রাসীদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা করতে বলেন, তাহলে মার্কিন সেনাবাহিনীর উচিত ট্রাম্পের আদেশ অমান্য করা।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন দেশের সেনারা আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ করে ইতিমধ্যে দেশে ফিরে গেলেও প্রায় বিশ হাজার মার্কিন সেনা দেশটিতে রয়ে গেছে। তারাও ২০২০ সালের মধ্যে আফগানিস্তান ত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সূত্র: ডন
/এসএ/বিএ/