মার্কিন সংস্থাকে ভিসা না দিতে অনড় ভারত

ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখে এমন একটি মার্কিন সরকারি সংস্থাকে ভারতের ভিসা না দেওয়ার যুক্তি তুলে ধরেছে দিল্লি। ভারত সরকার বলছে, তার দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করার জন্য কোনও বিদেশি সংস্থাকে অনুমতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

এর আগে কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) নামের ওই মার্কিন সংস্থাটির প্রধান রবার্ট জর্জ জানান, ভারত সরকার তাদের ভিসা দিতে অস্বীকার করেছে। এতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। তবে এই সফর যেন হতে পারে তার চেষ্টা তারা চালিয়ে যাবেন।

সংস্থাটির ওই বক্তব্যের পর ওয়াশিংটনের ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা মনে করেন না ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনও প্রয়োজন রয়েছে। এ ধরনের সফরের ক্ষেত্রে ভারত সরকারের নীতির কোনও পরিবর্তন হয়নি।

noname

ওয়াশিংটনের ভারতীয় দূতাবাস বলেছে, ভারত একটি স্পন্দনশীল বহুত্ববাদী সমাজ। এ দেশের সংবিধানে সব নাগরিকের মৌলিক অধিকারের গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারতের জনগণের সংবিধানস্বীকৃত অধিকারের বিষয়ে তাদের মতো একটি বিদেশি সংস্থার বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।

এদিকে, কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ওবং নয়াদিল্লিতে নিয়োজিত মার্কিন দূতাবাসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সফরটির পরিকল্পনা চলছিল। তবে শেষ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় ভিসা দেয়নি ভারত।

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়, নাগরিক সংগঠন এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন থেকে আভাস পাওয়া যায় যে, গত দুই বছরে দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিবেশের অবনতি হয়েছে।

এক বিবৃতিতে ইউএসসিআইআরএফ-এর চেয়ারম্যান রবার্ট জর্জ বলেন, ‘ভিসা দিতে ভারত সরকারের অস্বীকৃতিতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। বহুত্ববাদী, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে ভারতের উচিত ছিল আমাদের ওপর আস্থা রাখা।’

রবার্ট জর্জ জানান, ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাতের কারণে সমালোচনার তুঙ্গে থাকা দেশ পাকিস্তান, সৌদি আরব, ভিয়েতনাম, চীন ও মিয়ানমারসহ বিশ্বের আরও অনেক দেশেই তাদের প্রতিনিধিরা যেতে পারেন। আর স্বচ্ছতা প্রশ্নে এসব দেশ থেকে ভারতের অবস্থান আরও ভালো হওয়ার ব্যাপারে যে কেউ আশা করতে পারেন।

উল্লেখ্য, ইউএসসিআইআরএফ-এর ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)’র নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এছাড়া অসংখ্য সহিংস হামলা এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের পক্ষ থেকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের ঘটনাও তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে। সূত্র: ডন, দ্য গার্ডিয়ান।

/এমপি/বিএ/