অ্যাঙ্গেলা মার্কেলরবিবার (১৩ মার্চ) জার্মানির তিনটি অঞ্চলের পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে আঞ্চলিক প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রশ্নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও একে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের জন্য বড় পরীক্ষা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ জার্মানরা মার্কেলের নেওয়া শরণার্থী নীতিকে সমর্থন দিচ্ছেন কিনা তা এ নির্বাচনের ফলাফলের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, শরণার্থীদের জন্য মার্কেলের নেওয়া ‘উন্মুক্ত দুয়ার’ নীতির কারণে জনগণের মধ্যে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে তা কাজে লাগিয়ে জয় পেয়ে যেতে পারে অলটারনেটিভ ফর জার্মানি পার্টি (এএফডি)। নির্বাচনপূর্ববর্তী জরিপেও এএফডি এগিয়ে রয়েছে। জরিপে দেখা যায়, মার্কেলের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দেশের পূর্বাঞ্চলের স্যাক্সোনি-অ্যানহাল্টে সবচেয়ে বড় দল হিসেবেই থাকবে। তবে পশ্চিমের বাডেন-উয়েরটেমবার্গ অঞ্চলে গ্রিনসদের কাছে তাদের পরাজিত হতে হবে। আর রিনেল্যান্ড-পালাটিনেট অঞ্চলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
জরিপ অনুযায়ী, স্যাক্সোনি-অ্যানহাল্ট অঞ্চলে এএফডি’র পক্ষে সমর্থন ১৯ শতাঙম পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ অঞ্চলটিতে বর্তমানে সিডিইউ ও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস জোট ক্ষমতাসীন আছে। জরিপের পূর্বাভাস সত্যি হলে এ অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ক্ষমতাসীন জোটকে তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া লাগতে পারে।
জার্মানির ১৬টি আঞ্চলিক পার্লামেন্টের ৫টিতে প্রতিনিধিত্বকারী এএফডি ‘সীমান্ত নিরাপদ করো’ এবং ‘অবিভাসন প্রত্যাশীদের বিশৃঙ্খলা বন্ধ করো’ এমন সব স্লোগানে প্রচারণা চালাচ্ছে।
জার্মান ভাইস চ্যান্সেলর সিগমার গ্যাব্রিয়েলের মতে, এএফডি তাদের প্রচারণার মধ্য দিয়ে অভিবাসন নীতির প্রতি সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন আনতে পারবে না।
এদিকে রবিবারের নির্বাচনের প্রস্ততির ব্যাপারে শনিবার বিবিসির পক্ষ থেকে মার্কেলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি সবকিছু ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছি।’
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে প্রায় ১০ লাখ শরণার্থী নৌকায় করে ইউরোপে পাড়ি দেয়। আর চলতি বছরে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩০ জন ইউরোপে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ইউরোপের বিশালতম অর্থনীতির দেশ হওয়ার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/বিএ/