মিয়ানমারে চলমান সহিংসতায় কয়েক লাখ রোহিঙ্গা এরই মধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এরমধ্যে দেশটিতে নতুন করে আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এ দফায় আরও প্রায় ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, সীমান্তে এখনও অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গা অপেক্ষমাণ। তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এমন অনুরোধ জানানো হয়।
সংস্থাটি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, মিয়ানমারের জান্তা সরকার ও বিচ্ছিন্নতাবাদি আরাকান আর্মির মধ্যকার লড়াই বাড়ছেই। আর এতে বলির পাঠা হচ্ছেন রোহিঙ্গারা। এই সংঘাতের নিপীড়ন থেকে প্রাণে বাঁচতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আনুমানিক ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন। আর সীমান্তে অনুমতির অপেক্ষায় আছেন আরও ১০ হাজার রোহিঙ্গা।
সংস্থাটি বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টের শুরু থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর ডেপুটি এশিয়া ডিরেক্টর মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে মিয়ানমারে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে এবং তাদের সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের খাদ্য ও ওষুধের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। তবে তারা ভয় করছেন যে, সাহায্য চাইলেই তাদের জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হতে পারে।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নতুন রোহিঙ্গাদের কোনও তালিকা তৈরি করেনি এবং তাদের খাদ্য রেশন ও স্বাস্থ্যসেবা না দিয়ে জোর করে মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার ক্রমাগত ঝুঁকিতে ফেলেছে। নতুন রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করার বিষয়ে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারকে (ইউএনএইচসিআর) সহযোগিতা করা উচিত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত রাখাইন রাজ্যে আরও নৃশংসতা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধানের দিকে অগ্রগতি করা। মিয়ানমারের ওপর বৈশ্বিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা প্রবর্তনের জন্য একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে হবে বলেও জানায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সেখানকার পরিস্থিতির মূল্যায়ন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠাতে হবে এবং জান্তা ও সামরিক মালিকানাধীন সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।