হাফ প্যান্ট ছেড়ে ফুল প্যান্টে আরএসএস!

আরএসএস নেতৃত্বপোশাকে পরিবর্তন আনলো শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মতাদর্শ সরবরাহকারী ভারতের ডানপন্থী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)| নতুন ড্রেস কোডে খাকি হাফ প্যান্টের জায়গায় থাকবে বাদামি ফুল প্যান্ট। এদিকে মন্দিরে নারীদের প্রবেশাধিকারের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে সংগঠনটি।
রাজস্থানের নাগোরে সর্বভারতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়| বর্তমান প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতেই ড্রেস কোড পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
বিগত ৯০ বছরে আরএসএস-এর সঙ্গে তার ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল তার ইউনিফর্ম। আরএসএস বলতে যে চিত্রটি চোখের সামনে ফুটে ওঠে, তা হলো – সাদা ফুলহাতা শার্ট (যার হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো), খাকি হাঁটু পর্যন্ত ঝোলা হাফ প্যান্ট এবং কালো টুপি।
গত বছর রাঁচিতেই আরএসএসের প্রতিনিধি সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, হাফপ্যান্টের স্থলে আসবে ফুল প্যান্ট। আর এবারে রাজস্থানের প্রতিনিধি সম্মেলনে আরএসএস-এর ওই চিত্র বদলের ঘোষণা আসলো। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুরেশ ভাইয়াজি জোশী সাংবাদিক সম্মেলনে এই বদলের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, উইনিফর্ম বদলের ভাবনা দীর্ঘদিন ধরেই বিবেচনা করে আসছে আরএসএস-এর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংগঠন অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা (এবিপিএস)। বস্তুত, এই বদলের ভাবনা প্রথম উত্থাপন হয় ২০১০ সালে। কিন্তু নেতৃস্থানীয়রা সহমত হতে না পারায় সেই ভাবনা ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।

 

সুরেশ ভাইয়াজি জোশীগত বছর রাঁচিতেই আরএসএসের প্রতিনিধি সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, হাফপ্যান্টের স্থলে আসবে ফুল প্যান্ট। আর এবারে রাজস্থানের প্রতিনিধি সম্মেলনে আরএসএস-এর ওই চিত্র বদলের ঘোষণা আসলো। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুরেশ ভাইয়াজি জোশী সাংবাদিক সম্মেলনে এই বদলের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, উইনিফর্ম বদলের ভাবনা দীর্ঘদিন ধরেই বিবেচনা করে আসছে আরএসএস-এর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংগঠন অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা (এবিপিএস)। বস্তুত, এই বদলের ভাবনা প্রথম উত্থাপন হয় ২০১০ সালে। কিন্তু নেতৃস্থানীয়রা সহমত হতে না পারায় সেই ভাবনা ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
ভাইয়াজি বলেন, ‘যে রং আমরা বাছাই করতাম, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতো। যদি সাদা বা কালো রং বাছাই করা হতো, তাতেও প্রশ্ন উঠতো। গেরুয়া রং বাছাই করা হলে আরও সমালোচনা হতো। বাদামী রং দেখতে ভালো। আর সহজে পাওয়া যায়, তাই শেষপর্যন্ত এই রংটাই বাছাই করা হয়েছে। আমাদের কোনও জড়তা নেই। সময়ের সঙ্গে খাপ খেয়ে নিতেই এই সিদ্ধান্ত। গত এক বছরে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি যুবক সংঘে থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। শাখার সংখ্যাও বাড়ছে। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে নরেন্দ্র মোদিও হাফপ্যান্টের বদলে ফুলপ্যান্ট করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।’
ভারতের অনেক মন্দিরে নারীদের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত রয়েছে। সম্প্রতি আরএসএস নারীদের মন্দিরে প্রবেশের পক্ষে সমর্থনের কথাও বলেছে। ভাইয়াজি জানান, নারীদের এই দাবি খুবই সংবেদনশীল। আর এজন্য মানুষের চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তন দরকার। তবে এতে আরএসএস-এর সমর্থনের কথাও জানান ভাইয়াজি।

আরএসএস-এর ইতিহাস থেকে দেখা যায়, আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেগড়েওয়াড় ১৯২০ সালে নাগপুরে ভারতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে খাকি শার্ট, খাকি হাফ প্যান্ট, কালো টুপি, লম্বা মোজা আর বুটের প্রচলন করেন।

noname

পরে কংগ্রেসের সাথে মতানৈক্য হওয়ায় ১৯২৫ সালে আরএসএস প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তবে ওই ইউনিফর্মে হাফ প্যান্টের কোনও পরিবর্তন হয়নি। তখন শার্টের রং বদলে খাকি থেকে সাদা করা হয়। চামড়ার বুট, বেল্টও বদলেছে। কিন্তু নব্বই বছরে হাফপ্যান্টের ধরণ-ধারণ বদলায়নি।

এদিকে, বিরোধী দল এই সুযোগে আরএসএসকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি। শনিবার কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ আরএসএসকে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আইএস-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। কংগ্রেসের অপর এক নেতা প্রদীপ জৈন বলেন, ‘পোশাক আর তার রং বদলালেও আরএসএসের চিন্তাধারার তো কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। যতই ইমেজ মেকওভার করুক তারা, আরএসএসের দলিত ও মহিলা বিরোধী মানসিকতা যাবে কোথা থেকে?’ সূত্র: হাফিংটনপোস্ট, আনন্দবাজার, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

/এসএ/বিএ/