কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলোতে ব্যাপক রুশ হামলার কারণে ইউক্রেন থেকে ফিলিস্তিনে জরুরি সরবরাহ পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া হামলার কারণে বৈশ্বিক দক্ষিণেও শস্য পরিবহনে ব্যাঘাত ঘটছে। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) এসব দাবি করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
স্টারমারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলোতে যথেচ্ছ হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। ফলে এখন আর সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই যে, ইউক্রেনকে বশ্যতা স্বীকার করাতে প্রয়োজনে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে জুয়া খেলতেও পিছপা হবেন না পুতিন।’
এদিকে, জাতিসংঘ থেকে সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগরে ১ সেপ্টেম্বর থেকে রুশ হামলার ফলে একটি শস্য অবকাঠামোসহ ছয়টি বেসামরিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার প্রকোপ বৃদ্ধিকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে তারা।
ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে স্টারমার জানিয়েছেন, ৫ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্য কৃষ্ণ সাগরে অন্তত চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ রুশ হামলার শিকার হয়েছে।
তিনি আরও বলেছেন, ‘নিজের বর্বরোচিত যুদ্ধে আধিপত্য ধরে রাখতে গিয়ে আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কোটি কোটি মানুষকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন (পুতিন)।’
স্টারমারের বক্তব্য অনুসারে, ফিলিস্তিনে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উদ্দেশ্যে ভোজ্যতেলবাহী এবং মিসর ও দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে শস্যবাহী জাহাজ ইউক্রেন থেকে ছেড়ে যেতে বিলম্ব হয়েছে। এর কারণ ছিল রাশিয়ার ব্যাপক হামলা।
বিশ্বের অন্যতম গম এবং ভুট্টা উৎপাদনকারী দেশ হচ্ছে ইউক্রেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার আক্রমণের আগে দেশটি কৃষ্ণ সাগরের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ লাখ টন শস্য রফতানি করত। বর্তমান পরিস্থিতিতেও ইউক্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হচ্ছে শস্য রফতানি।
যুদ্ধ শুরুর পর কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ নিরাপদ রাখার জন্য রাশিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি উদ্যোগ নিয়েছিল জাতিসংঘ। কিন্তু গত বছর তা অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরপর থেকে কৃষ্ণসাগরে একটি শিপিং করিডোর তৈরি করে সরবরাহ ধরে রাখছে ইউক্রেন।