দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক সংকট

প্রেসিডেন্টের অভিশংসনে সমর্থন দিতে ক্ষমতাসীনদের প্রতি বিরোধীদের আহ্বান  

দক্ষিণ কোরিয়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অভিশংসনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা লি জায়ে-মিয়ং। পার্লামেন্টে ইউনের অভিশংসন ভোট আরেকবার অনুষ্ঠিত হওয়ার আগের দিন শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) তিনি এ কথা বলেছেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। 

ক্ষমতাসীন দল পিপল পাওয়ার পার্টির (পিপিপি) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লি বলেছেন, অভিশংসনে সমর্থন দিন। ইতিহাসে আপনাদের সিদ্ধান্ত অম্লান হয়ে থাকবে। 

স্থানীয় সময় শনিবার বিকাল ৪টায় দ্বিতীয় অভিশংসন প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনের প্রথম অভিশংসন ভোট বর্জন করে কোরাম নিশ্চিত হতে বাধা দেয় পিপিপি। ফলে সে যাত্রা পার পেয়ে যান প্রেসিডেন্ট। তবে পরবর্তী সময়ে পিপিপির অন্তত সাত জন সদস্য অভিশংসন সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। এতে বিরোধী দলের ১৯২ জন আইনপ্রণেতার সঙ্গে মিলে অভিশংসনের জন্য প্রয়োজনীয় ২০০ ভোটের কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।

গত ৩ ডিসেম্বর সামরিক শাসন জারির ছয় ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন ইউন। তবে আদেশ প্রত্যাহার করলেও দেশটি পড়ে গেছে সাংবিধানিক সংকটে। তার পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী চলছে আন্দোলন।

বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগে অস্বীকার করে ইউন বলেছেন, সরকারকে অচল করে দিচ্ছে বিরোধী দল। তিনি দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার একটি সাইবার আক্রমণে নির্বাচন কমিশনের কম্পিউটার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা গত এপ্রিলের পার্লামেন্টারি নির্বাচনে তার দলের বিপর্যয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

ইউনের মন্তব্যকে জনগণের বিরুদ্ধে 'যুদ্ধ ঘোষণা' বলে আখ্যায়িত করে বিরোধীদলীয় নেতা লি বলেন, এই সংকট সমাধানের দ্রুত ও কার্যকর উপায় হলো ইউনের অভিশংসন। 

অভিশংসন পাস হলে বিষয়টি সাংবিধানিক আদালতে পাঠানো হবে। সেখানে ছয় মাসের মধ্যে ইউনকে ক্ষমতাচ্যুত বা পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে প্রমাণ ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের সিস্টেমে প্রভাব ফেলার অভিযোগ করে আরও সমালোচনার শিকার হচ্ছেন ইউন। কারণ সামরিক শাসন ঘোষণার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, কমিশনের যথাযথ সহযোগিতার অভাবের কারণে এপ্রিলের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়নি।

এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাচন কমিশনের সেক্রেটারি জেনারেল কিম ইয়ং-বিন। শুক্রবার তিনি বলেন, পুরোপুরি কাগজের ব্যালটের মাধ্যমে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। আর অনিয়মের অভিযোগে দায়েরকৃত ২১৬টি মামলা ভিত্তিহীন হিসেবে খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

অপর একটি অভিযোগে, সামরিক শাসন ঘোষণার জন্য ইউনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত চলমান আছে।