দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালতে অভিশংসন মামলার প্রথম শুনানিতে হাজির হননি দেশটির বরখাস্ত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। ফলে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) শুনানি আরম্ভের কয়েক মিনিটের মধ্যেই আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইউনের এক আইনজীবী বলেছেন, সিউলে নিজের ভিলায় কয়েক সপ্তাহ ধরে অবস্থান করছেন অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট। তাকে হেফাজতে নেওয়ার একটা প্রচেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। তাই আদালতে সশরীরে এসে আত্মপক্ষ সমর্থন করা তার পক্ষে সমর্থন নয়।
পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ১৬ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার। ইউন এবারও উপস্থিত না হলে তার আইনি প্রতিনিধিদের নিয়েই কার্যক্রম শুরু করবে আদালত।
আদালতের বাইরে সংবাদমাধ্যমকে অভিশংসিত প্রেসিডেন্টের আইনজীনী ইউন কাব-কেউন বলেছেন, পরবর্তী শুনানিতে ইউনের উপস্থিত হওয়া নির্ভর করবে তার নিরাপত্তার ওপর।
অভিশংসিত ইউনের স্থায়ী অপসারণ বা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য সাংবিধানিক আদালতের হাতে সময় আছে ১৮০ দিন।
ওদিকে, দেশদ্রোহের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত চলছে ইউনের বিরুদ্ধে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব অগ্রাহ্য করলে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে দুর্নীতি তদন্তকারী সংস্থা। প্রেসিডেনশিয়াল গার্ডের বাঁধায় সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা অবৈধ ছিল বলে আবারও দাবি করেছেন ইউনের আইনজীবী। সঠিকভাবে অনুমোদিত ও আইনসিদ্ধ পরোয়ানাতেই কেবল ইউন সাড়া দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত ৩ ডিসেম্বর সামরিক আইন জারি করে নিজের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও অনিশ্চয়তা তৈরি করেন ইউন সুক ইওল। সেই আইন ৬ ঘণ্টার বেশি কার্যকর না রাখা গেলেও, আইনি জটিলতা থেকে ৬ সপ্তাহেও বেরোতে পারেননি ইউন।