এর আগে মঙ্গলবার সকালে পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে ১৮ জন হবু মন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়। সু চি মন্ত্রিপরিষদে থাকছেন না বলে এর আগে এনএলডি’র এক মুখপাত্রের তরফে জানানো হলেও মঙ্গলবার ঘোষিত তালিকায় সু চির নামটিও পাওয়া যায়। আর এর মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রীর মন্ত্রিপরিষদে থাকা না থাকা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা গুঞ্জনের অবসান হয়।
মঙ্গলবার পার্লামেন্ট স্পিকার মান উইন খাইং থান ১৮ জন হবু মন্ত্রীর নাম ঘোষণা করলেও ৭০ বছর বয়সী সু চি কিংবা অন্য মন্ত্রীদের কাকে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে তা জানাননি। আসছে বৃহস্পতিবার পার্লামেন্ট অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন করার কথা রয়েছে। তবে এরইমধ্যে বিবিসির প্রতিবেদক জোনাহ ফিশার জানিয়েছেন যে, সু চি ২১টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চারটির দায়িত্বে থাকবেন। মন্ত্রিপরিষদের তালিকায় সু চিই একমাত্র নারী। এছাড়া তালিকায় সাবেক রাজবন্দি থেইন সোয়ে এবং জাতিগত গোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত নাইং থেট লেউয়িনের নাম রয়েছে।
আসছে এপ্রিলে সরকার গঠন করবে এনএলডি। গত নভেম্বরের নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের পর থেকে সরকার গঠন নিয়ে খুব সীমিত তথ্য জানাচ্ছে দলটি।এর আগে, এনএলডি’র এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, সু চি মন্ত্রিপরিষদে থাকছেন না। তবে তিনি ক্ষমতাসীন দলের প্রধান নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আর তাতে ওই দলের দ্বারা গঠিত সরকারকেও নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন।
সাংবিধানিক বাধার কারণে দলীয় প্রধান হওয়ার পরও প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ নেই সু চি’র। মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, কোনও বিদেশিকে বিয়ে করলে বা সন্তানদের কেউ অন্য দেশের নাগরিক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। সু চি’র স্বামী মাইকেল অ্যারিস ছিলেন একজন ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ। তার দুই সন্তানও ব্রিটিশ নাগরিক।
আর তাই নির্বাচনের আগে থেকেই ‘প্রেসিডেন্টের ঊর্ধ্বে’ থেকে সরকার পরিচালনার অঙ্গীকার করেন সু চি। চলতি মাসেই সু চির উপদেষ্টা থিন কিয়াওকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করাকে সু চি’র সে শপথের বাস্তবায়ন বলেই মনে করা হচ্ছে। ১৯৬২ সাল থেকে মিয়ানমারের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এ সময়ের মধ্যে জান্তা সরকারের রোষানলে ১৫ বছর সু চি’কে গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাতে হয়েছে। গত ২০ বছর ধরে মিয়ানমারে সু চি’র দলকে সরকারের প্রতিপক্ষ মনে করা হতো। এ সময়ে দলটির বহু নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ২৫ বছর পর প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সু চি’র দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও দেশটির পার্লামেন্টে সেনাবাহিনীর প্রভাব থাকছে। কারণ তাদের জন্য ১৬৬টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকছে সেনাবাহিনী। মিলিটারি-কমান্ডার-ইন চিফ প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র এবং সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রীদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান
/এফইউ/বিএ/