বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে জাভেনতেম বিমানবন্দর এবং ইইউ ইন্সটিটিউশনের কাছের মালবিক মেট্রো স্টেশনে পৃথক পৃথক বিস্ফোরণের পর প্রত্যক্ষদর্শীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা। তারা বলেছেন, সর্বত্র কেবল রক্ত আর রক্তের দেখা পেয়েছেন তারা। এক বড় ধ্বংসযজ্ঞ সম্পন্ন করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
ব্রাসেলসে জাভেনতেম বিমানবন্দর এবং ইইউ ইন্সটিটিউশনের কাছের মালবিক মেট্রো স্টেশনে পৃথক পৃথক বিস্ফোরণের পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও বিমানবন্দরের হামলায় অন্তত ১৩ জনের এবং মেট্রো স্টেশনের হামলায় অন্তত ১০ জনের প্রাণহানির খবর জানিয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে সর্বোচ্চ সন্ত্রাসী সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হামলার পর বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গোটা মেট্রো ব্যবস্থাও।
বিমানবন্দরে হামলায় ঘটনায় ড্রায়েস ভ্যালাইর্ট নামের ৩০ বছর বয়সী একজন প্রত্যক্ষদর্শী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে বলেছেন, ‘প্রথম বিস্ফোরণের ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। পরের বিস্ফোরণটি ছিল আরও জোরালো। ১৮ বছরের কাছাকাছি বয়সের বয়সী এক নারীকে দেখেছি একজন আহত মানুষকে উদ্ধার করতে। তার সারা শরীর ছিল রক্তে ভেজা। হামলাস্থলে প্রচুর রক্ত আর প্রচণ্ড ভীত মানুষদের দেখেছি আমি।’
৪০ বছর বয়সী আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জেফ ভার্সেল ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘বড় বড় বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।’ হামলায় অন্তত ১৫টি জানালা উড়ে চলে যেতে দেখেছেন তিনি।
জাস মৌজুন নামের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘সর্বত্র কেবল রক্ত আর রক্ত। সর্বত্র কেবল আহত মানুষদের হাহাকার।’
এদিকে বিবিসির এক প্রতিবেদনেও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে সর্বত্র রক্তাক্ত অবস্থার কথা জানানো হয়েছে।
বেলজিয়ামের বিস্ফোরণকে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী চার্লস মাইকেল বলেছেন, ‘এটি একটি অন্ধ, সহিংস এবং কাপুরুষোচিত হামলা। এই হামলা আমাদের ইতিহাসের এক ভয়াবহ করুণ দিন। আমি সবাইকে শান্ত ও স্থির থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এদিকে হামলার পর নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স ও ব্রিটেন। বিস্ফোরণের পর জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, ‘এই হামলা সন্ত্রাসীদের ঘৃণা আর সহিংসতার আরেক নজির স্থাপন করেছে।’
এটি জঙ্গি হামলা কিনা, এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে একাধিক সূত্র বলছে, এই হামলা প্যারিস হামলার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন আব্দেসলামের গ্রেফতারের প্রতিশোধে হতে পারে। সূত্র: ডেইলি মেইল, বিবিসি
/বিএ/