কর্মী ছাঁটাই পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করবে মার্কিন সরকার

মার্কিন সরকারে ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনায় কিছুটা রাশ টেনে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর্থিক প্রণোদনার বিনিময়ে বা অন্য কোনও কারণে হাজার হাজার কর্মী ইতোমধ্যে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ করায় এই অবস্থানগত পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

মার্কিন পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অফিসের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক নোয়া পিটার্স সোমবার (১৪ জুলাই) এক বক্তব্যে বলেছেন, সরকারের একাধিক দফতর কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নিয়ে আর অগ্রসর হচ্ছে না। নতুন মেয়াদের প্রথম কয়েকমাসে প্রণোদনার বিনিময়ে স্বেচ্ছা অবসর প্রস্তাব গ্রহণ এবং স্বাভাবিক অবসরের কারণে যথেষ্ট পরিমাণ জনবল কমে আসায় ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

কোন সরকারি বিভাগগুলো ছাঁটাই পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি পিটার্স।

চলতি বছরের শুরুতে কর্মী ছাঁটাই পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের যে আগ্রাসী মনোভাব দেখা দিয়েছিল, পিটার্সের কথায় তাদের সে অবস্থান নমনীয় হওয়ার সর্বশেষ উদাহরণ বলে মনে হচ্ছে। চলতি মাসে সেনা কল্যাণ বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স) জানায়, তারা পূর্বপরিকল্পিত ৮০ হাজারের বদলে ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে।

জানুয়ারিতে ক্ষমতায় এসেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারি কর্মী সংখ্যা কমানোর ঘোষণা দেন। এ লক্ষ্যে ‘সরকারি দক্ষতা বিভাগ’ (ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি বা ডোজে) নামে একটি নতুন বিভাগ গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন ধনকুবের ইলন মাস্ক।

এই উদ্যোগের ফলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার সরকারি কর্মী চাকরিচ্যুত, পদত্যাগ বা আগাম অবসরে যান।

ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প বিভিন্ন সরকারি দফতরকে ব্যাপক হারে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা তৈরি করতে বলেন। এর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন আদালতে মামলা করে। তাদের দাবি, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন না।

ক্যালিফোর্নিয়ার একটি জেলা আদালত মে মাসে কর্মী ইউনিয়নের পক্ষে রায় দিয়ে ছাঁটাই প্রক্রিয়া স্থগিত করে।

তবে গত ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ওই স্থগিতাদেশ বাতিল করে প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগসহ ১৯টি দফতরকে ছাঁটাই কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি দেয়।