শিশুদের খেলনা দিয়ে ভিডিও তৈরি: জাপানি নির্মাতা ও টিকটকারের আইনি লড়াই

শিশুতোষ খেলনা ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্কদের ভিডিও তৈরির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে খেলনা নির্মাণকারী জাপানি প্রতিষ্ঠান ইপোক। প্রতিষ্ঠানটির দায়ের করা মেধাস্বত্ব মামলায় বলা হয়, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর থিয়া ফন এঙ্গেলব্রেচটেন তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'অনৈতিক' দিক তুলে ধরে যেসব ভিডিও তৈরি করেছেন, তা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

গত ৪ জুলাই নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের আদালতে দায়ের করা মামলার নথি যাচাই করে দেখেছে বিবিসি। সেখানে বলা হয়েছে, ইপোকের অনুমতি ছাড়া কন্টেন্ট তৈরি করে মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন করেছেন এঙ্গেলব্রেচটেন। তার কন্টেন্টের কারণে প্রতিষ্ঠানের জনপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক সুনামের ক্ষতি হচ্ছে।

জাপানি প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৫ সালে নরম তুলতুলে এসব খেলনা বাজারে আনে, যা সিলভিয়ান ফ্যামিলি নামে পরিচিত। শিশুতোষ ক্ল্যাসিক হিসেবে বিবেচিত এসব পুতুল 'পশুপাখির আদলে তৈরি বৈচিত্র্যময় আদুরে চরিত্র, যারা মনোরম আসবাবপূর্ণ বাড়িতে থাকে' বলে বাজারজাত করা হয়। এই চরিত্রগুলো সবুজে-শ্যামল পরিবেশে গাছপালায় ঘেরা তৃণভূমি এবং নদীরে ধারে স্বপ্নময় পরিবেশে বাস করে।

চরিত্রগুলোর নামও খুব শ্রুতিমধুর। যেমন, ফ্রেয়া দ্য চকোলেট র‍্যাবিট গার্ল বা অ্যামব্রোজ দ্য ওয়ালনাট স্কুইরেল বেবি, আর গল্পের শিরোনাম হয় সাগরের ধারে পিকনিক বা সবার জন্য আইসক্রিম।

তবে এঙ্গেলব্রেচটেনের সিলভিয়ান ড্রামা টিকটক অ্যাকাউন্টে এসব চরিত্র ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্কদের কন্টেন্ট তৈরি করা হয়। এসব ভিডিওতে মদ্যপান, মাদক, প্রতারণা, নৃশংসতা, এমনকি হত্যার মতো থিমও তুলে ধরা হয়।

তবে আয়ারল্যান্ডের নাগরিক এঙ্গেলব্রেচটেন পালটা আইনি নোটিশে আত্মপক্ষ সমর্থন করে দাবি করেছেন, তার কন্টেন্ট 'প্যারোডি' হিসেবে তালিকাভুক্ত। তিনি শতাব্দীর শুরুর দিককার বিব্রতকর কমেডি ঘরানার টিভি শো-এর আদলে এসব কন্টেন্ট তৈরি করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, আমার পোষা বিড়াল থেকেও কিছু আইডিয়া নিয়েছি। কেননা বিড়াল খুব আদুরে হলেও প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রিক হতে পারে এবং প্রাণ সংহারে তাদের কোনও নৈতিকতা দেখা যায় না। সিলভিয়ান ফ্যামিলি ব্যবহার করে আমি সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যথেষ্ট আলোড়ন তুলেছে। এরমধ্যে এঙ্গেলব্রেচটেনের টিকটক অ্যাকাউন্টে ২৫ লাখ অনুসারী জুটে গেছে এবং তার কন্টেন্টে ছয় কোটি ৮০ লাখের বেশি লাইক পড়েছে। এর পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স এবং ফেসবুকেও তার সিলভিয়ান ড্রামা কন্টেন্টের অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

এঙ্গেলব্রেচটেনের অ্যাকাউন্টের অংশীদারের তালিকায় রয়েছে নেটফ্লিক্স, মার্ক জ্যাকবস, বার্বেরি এবং হিলটনের মতো প্রতিষ্ঠান, যারা নিয়মিত এখানে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।

আগামী ১৪ আগস্ট প্রাক-বিচার বৈঠকের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। দুই পক্ষের আইনজীবীরা সেখানে আপোসের পথ খুঁজবেন অথবা মামলাকে বিচার পর্যন্ত এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেবেন।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইপোক বা এঙ্গেলব্রেচটেন কেউই বিবিসির অনুরোধে সাড়া দেয়নি।