ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ডনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ হামলার জন্য ডনবাসকে স্প্রিংবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারে রাশিয়া। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ডনবাসে আমাদের প্রতিরক্ষা, প্রাকৃতিক সুবিধা এবং নিয়ন্ত্রণ পরিত্যাগ করে যদি সরে যাই, তবে স্পষ্টতই রাশিয়াকে আমরা ভবিষ্যৎ হামলার জন্য দ্বার উন্মোচন করে দিব।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় লুহানস্ক ও ডোনেস্ক অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত ডনবাস ২০১৪ সাল থেকে আংশিকভাবে রুশ দখলে আছে। মস্কোর নিয়ন্ত্রণে প্রায় পুরো লুহানস্ক এবং ডোনেস্কের ৭০ শতাংশ চলে গেলেও মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেছেন, ডনবাস থেকে পিছু হটার যে কোনও প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করবেন।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা এখন মস্কোর নিয়ন্ত্রণাধীন।
এদিকে, আগামী ১৫ আগস্ট, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলাস্কায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, শান্তিচুক্তিতে দুপক্ষের ভালোর জন্যই কিছু ভূখণ্ডের মালিকানা বদলের সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন পর্যন্ত রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাদের দাবিদাওয়ার আনুষ্ঠানিক কোনও তালিকা পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ডনবাসের যেটুকুও কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তার দখল চাইতে পারেন পুতিন।
এই আলোচনা প্রকাশ্যে আসার পরই জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেন তার ভূমি দখলদারদের উপহার দেবে না। এছাড়া, তাদের দেশের সীমানায় কোনও পরিবর্তন আনতে হলে গণভোটের প্রয়োজন হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে রুশ বাহিনী তাদের গ্রীষ্মকালীন হামলা অব্যাহত রেখেছে। পূর্বাঞ্চলীয় ডোব্রোপিলিয়া শহরের কাছে হঠাৎ অগ্রসর হয়ে তারা অল্প সময়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এগিয়ে গেছে। জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন, একাধিক স্থানে এই অগ্রগতি ঘটেছে, তবে কিয়েভ শিগগিরই সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো ধ্বংস করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তিনি রাশিয়ার অগ্রগতিকে খাটো করে দেখালেও বলেন, পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকের আগে মস্কোর লক্ষ্য হলো একটি ‘তথ্যগত পরিবেশ’ তৈরি করা, যেন দেখানো যায় যে, রাশিয়া অগ্রসর হচ্ছে আর ইউক্রেন হারছে।
মঙ্গলবার রাতের ভাষণে জেলেনস্কি আরও জানান, জাপোরিজ্জিয়া, পোকরোভস্ক ও নোভোপাভলোভে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো।