কানাডায় অবস্থানরত শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে শীতল হয়ে যাওয়া দিল্লি-অটোয়া সম্পর্কে উষ্ণতার ইঙ্গিত মিলছে। প্রায় দশ মাসের কূটনৈতিক টানাপড়েন শেষে দুদেশই পরস্পরের ভূখণ্ডে নিয়োগ করেছে নতুন হাইকমিশনার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
চলতি বছর জুনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের কূটনীতিবিদ নিয়োগের বিষয়ে একমত হন।
দিল্লির হাইকমিশনার হিসেবে ক্রিস্টোফার কুটারকে নিয়োগ করেছে অটোয়া। আর স্পেনে দায়িত্বরত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দিনেশ কে পাটনায়েককে দিল্লির তরফ থেকে কানাডার হাইকমিশনার হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনান্দ বলেছেন, ভারত-কানাডা কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার অংশ হিসেবে কুটারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অটোয়ায় শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন পাটনায়েক।
শিখ নেতা হরদ্বীপ সিং নিজ্জরকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত অক্টোবরে ভারতীয় হাইকমিশারসহ ছয় কূটনীতিবিদিকে বহিষ্কার করে কানাডা। অবশ্য দিল্লির দাবি, ওই কূটনীতিবিদকে তারাই সরিয়ে এনেছে।
সেদিনই কানাডার হাইকমিশনারসহ ছয় কূটনীতিবিদকে বহিষ্কার করে ভারত। দুদেশের পারস্পরিক কূটনীতিবিদ বহিষ্কারের ঘটনায় তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রায় তলানিতে নেমে আসে।
ভারতে শিখদের জন্য খালিস্তান নামের রাষ্ট্র গঠনের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতা নিজ্জরকে ২০২০ সালে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করে দিল্লি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় অবস্থান করছিলেন। ২০২৩ সালের জুনে ভ্যাঙ্কুভারে এক শিখ মন্দিরের বাইরে দুই আততায়ী গুলি চালিয়ে হত্যা করে তাকে। এর কয়েক মাস পর কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো প্রমাণ পেশ করা ছাড়া দাবি করেন, নিজ্জর হত্যায় ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টতার নির্ভরযোগ্য অভিযোগ তাদের হাতে রয়েছে।
ট্রুডোর অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিয়ে দিল্লি উলটো কানাডার বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলে। অবশ্য, খালিস্তানপন্থি আন্দোলনকে প্রশ্রয় দেওয়া ও বিচ্ছিন্নতাবাদী 'সন্ত্রাসীদের' আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে বহুদিন ধরেই কানাডার কঠোর সমালোচনা করে আসছে ভারত।
উল্লেখ্য, কানাডায় প্রায় সাত লাখ ৭০ হাজার শিখ বাস করেন।