আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আট শতাধিক মানুষ নিহত ও দু হাজার ৮০০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির মানুষের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছে ভারত, পাকিস্তান, চীন, তুরস্ক ও আজারবাইজান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভূমিকম্পে নিহতদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন,আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সম্ভাব্য সবরকম মানবিক ও ত্রাণ সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত আছে।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এক্স প্ল্যাটফর্মে সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। মোদির মতো প্রায় একই সুরে তিনি বলেছেন, এই দুর্ভোগের দিনে আফগান ভাই ও বোনদের পাশে আমরা আছি। আমাদের তরফ থেকে সম্ভাব্য সবরকম সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুত।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করছে বেইজিং। শোকাহত পরিবার ও আহতদের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, আফগান সরকারের নেতৃত্বে দেশটি দ্রুত পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন করতে সক্ষম হবে। আফগানিস্তানের প্রয়োজন অনুযায়ী চীন সহায়তা প্রদান করবে।
ভুক্তভোগীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
'ভ্রাতৃপ্রতিম আফগানদের' প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে কাবুলে অবস্থিত তুরস্কের দূতাবাস বলেছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
রিখটার স্কেলে ছয় মাত্রার ভূমিকম্পটি আফগানিস্তানে মধ্যরাতে আঘাত হানে।তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও নানগারহার প্রদেশে মোট ৮১২ জন নিহত হয়েছেন। সীমান্তবর্তী দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে মাটির ঘরবাড়ি ধস এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধারকাজ চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, এখন পর্যন্ত অন্তত দুহাজার ৮০০ মানুষ আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর এটি আফগানিস্তানের তৃতীয় ভয়াবহ ভূমিকম্প। এর আগে ২০২২ সালে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় এক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা