পানামা পেপারস: দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান পুতিনের

আলোচিত পানামা পেপারসে নিজের নাম আসা নিয়ে মুখ খুলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নিজের বিরুদ্ধে আনা যে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে পুতিন বলেছেন, তার বিরোধীরা রাশিয়াকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘রুশ জাতির ঐক্য দেখে তারা উদ্বিগ্ন। এর ফলে তারা আমাদের আনুগত্য পেতে আমাদের আরও বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করছে।’

নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সের্গেই রোলদুগিন সম্পর্কেও কথা বলেন পুতিন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের একজন বন্ধুর দুর্নীতির সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এমন কিছু হয়নি।

পুতিন বলেন, সের্গেই রোলদুগিন-এর মতো মানুষদের জন্য তিনি গর্বিত যারা তাদের উপার্জিত প্রায় সব অর্থ বাদ্যযন্ত্র এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পেছনে ব্যয় করেছেন।

এই প্রথম পানামাভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকা’র ফাঁস হওয়া নথি নিয়ে কথা  বললেন রুশ প্রেসিডেন্ট। ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা গেছে, পুতিনের ঘনিষ্ঠজনরা কর ফাঁকিসহ আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত। তাদের অফশোর কোম্পানিও রয়েছে। এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং-এর অভিযোগ রয়েছে।

ভ্লাদিমির পুতিন

পানামার ওই ল ফার্মের ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী একটি সন্দেহজনক অর্থ পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত। এসব নথিতে বিলিয়ন ডলার পাচারের একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে, যা পরিচালিত হয় রুশ মালিকানাধীন ব্যাংক রোশিয়ার মাধ্যমে।

রাশিয়া ক্রিমিয়াকে নিজেদের অংশ করে নেওয়ার পর ব্যাংক রোশিয়া নামের ওই ব্যাংকের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিদেশি কোম্পনিগুলোর মাধ্যমে ব্যাংকটি কীভাবে অর্থ পাচার করে আসছিল তা ফাঁস হওয়া নথির মাধ্যমেই প্রথম জানা যায়।

ফাঁস হওয়া নথিতে উঠে এসেছে সোনেত্তি ওভারসিস, ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া ওভারসিস, সানবার্ন এবং স্যান্ডালউড কন্টিনেন্টাল-এর মতো প্রতিষ্ঠাগুলো ভুয়া শেয়ার হস্তান্তর, মিথ্যা পরামর্শক চুক্তি, অবাণিজ্যিক ঋণ এবং অবমূল্যায়িত সম্পত্তি কেনার মাধ্যমে কিভাবে লাভবান হয়েছে। এর মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সের্গেই রোলদুগিন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া ওভারসিস এবং সোনেত্তি ওভারসিস -এর মালিক।

ফাঁস হওয়া নথিগুলো দেখিয়েছে পানামা-ভিত্তিক ল’ ফার্ম মোস্যাক ফনসেকা কীভাবে তাদের মক্কেলদের অর্থ পাচারে সহযোগিতা করেছে, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর এবং কর ফাঁকি দেওয়ার পথ দেখিয়েছে। মোস্যাক ফনসেকা অবশ্য বলছে, চার দশকে তাদের কাজ নিয়ে কোনো অবৈধ পন্থা অবলম্বনের অভিযোগ ওঠেনি, কোনো ফৌজদারি মামলার মুখেও তাদের পড়তে হয়নি।

সংগীত বাদক দলের বাদক রোলদুগিন কিশোর বয়স থেকেই পুতিনের পরিচিত। প্রেসিডেন্ট পুতিনের কন্যা মারিয়ার ধর্মপিতাও তিনি। নথি অনুযায়ী সন্দেহজনক ওই চুক্তিগুলো থেকে রোলদুগিন ব্যক্তিগতভাবে কোটি কোটি ডলার লাভ করেছেন।

রোলদুগিন এর আগে সাংবাদিকদের কাছে তিনি ব্যবসায়ী নন বলে দাবি করেছিলেন। বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে জটিল ওই চুক্তিগুলোর সঙ্গে তার জড়িত থাকার বিষয়টি  সন্দেহ এমন বাড়িয়ে তুলছে যে, তিনি হয়তো শুধুমাত্র অন্য কারো প্রতিনিধিত্ব করছেন। ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া ওভারসিস তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সময় রোলদুগিনের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের সম্পর্কের বিষয়টিও গোপন করে।

প্রতিটি অ্যাকাউন্টের আবেদনপত্রে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল রোলদুগিনের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কারও কোনও সম্পর্ক আছে কিনা? উত্তরে সে ধরনের কারও সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে; যা পুরোপুরি অসত্যের নামান্তর। সূত্র: বিবিসি।

/এমপি/