চলতি বছরের ২ জানুয়ারি দিবাগত রাতে পাঠানকোটের বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। ওই ঘটনায় ৬ হামলাকারী আর নিরাপত্তা বাহিনীর ৭ সদস্য নিহত হন। ঘটনার পর থেকেই হামলার পেছনে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদকেই দায়ী করে আসছে ভারত। হামলার পর ১৮ ফেব্রুয়ারি ভারত জাতিসংঘের কাছে ১১ ব্যক্তি এবং একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে ‘ভারতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সঙ্গে জড়িত’ উল্লেখ করে সেসব ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে আইএস এবং আল-কায়েদার নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক কমিটির অধীনে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাবে আজহার মাসুদের নামও রয়েছে। তবে মিত্র দেশ পাকিস্তানের অনুরোধে সেই প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি তোলে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন। তাদের ভেটোতে ভেস্তে যায় ভারতের উদ্যোগ। ভারতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আব্দুল বসিত বৃহস্পতিবার জানান, চীনের এই পদক্ষেপকে পাকিস্তান সমর্থন করে। পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের একদিন পর শুক্রবার মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলো।
শুক্রবার আজহারের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির জন্য মোহালির বিশেষ আদালতে যায় এনআইএ। মাসুদ ছাড়াও পরোয়ানা জারি হয়েছে তাঁর ভাই আব্দুল রউফ এবং অন্য দুই জয়েশ সদস্য কাসিফ জান ও শাহিদ লতিফের নামে। এনআইএ-র অভিযোগ, শেষ দু’জন পঠানকোট হামলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, এই পরোয়ানাকে অস্ত্র করে পাকিস্তানকে চাপে ফেলতে চায় দিল্লি। মাসুদকে নিষিদ্ধ করতে ফের জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠাবে তারা। সেখানে পাঠানকোট হামলায় মাসুদের যুক্ত থাকা নিয়ে কথা ওঠার সময়ে ওই পরোয়ানা পেশ করা হবে।
এদিকে পাঠানকোট হামলায় ব্যবহৃত বিদেশি অস্ত্রশস্ত্র ও সরঞ্জাম নিয়ে তদন্তে এফবিআই-সহ বিভিন্ন বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য চেয়েছে এনআইএ। ওই হামলায় জড়িতদের হাতে থাকা কালাশনিকভ রাইফেল, গ্রেনেড-সহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র সহজেই আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে পাওয়া যায় বলে মনে করছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। সেগুলি সম্পর্কে আরও তথ্য পেলে পাকিস্তানি সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করা সহজ হবে। সে কাজেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সাহায্য চেয়েছে এনআইএ। সূত্র: পিটিআই, টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার
/বিএ/