দিল্লিতে মাসের ১৫ দিন জোড়-বিজোড় ফর্মুলা চালু রাখার পরিকল্পনা

প্রতি মাসে ১৫ দিন জোড়-বিজোড় সংখ্যার ভিত্তিতে রাজপথে গাড়ি চলার অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দিল্লি সরকার। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এ কথা জানান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো খবরটি নিশ্চিত করেছে।

delhi car photo 3

কেজরিওয়াল জানান, আগামি ১৫ এপ্রিল থেকে এই মাসের সংখ্যাভিত্তিক পক্ষ শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘এই পদ্ধতি স্থায়ীভাবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়, কেননা জনপরিবহন সেই ভার নিতে সক্ষম নয়। জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে গাড়ি চলতে হলে সেই চাপ নিতে পর্যাপ্ত জনপরিবহন সরবরাহ করতে অন্তত বছরখানেক সময় লাগবে।’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই ব্যবস্থা জারি থাকলে মাসে চার-পাঁচদিন মাত্র যাতায়াতে অসুবিধা সৃষ্টি হবে জনগণের। তবে এতে পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য বায়ুদূষণ প্রতিরোধও সম্ভব হবে।’

তবে ধারণা করা হচ্ছে জনপরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা চালু না করে এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে তাতে জনমতের অপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এজন্য শিশুদের স্কুল থেকে ফেরত আনতে বাবাদের বা পুরুষ অভিভাবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, ‘ধরেই নেওয়া হয় শিশুরা সকাল আটটার আগেই স্কুলে পৌঁছে যাবে এবং মায়েরাই বিকেলে তাদের ফিরিয়ে আনবেন। বাচ্চাদের স্কুল থেকে আনার দায়িত্ব বাবারা নিলেই সমস্যার অনেকটা সমাধান হয়।’ তিনি আরও জানান, আগামি ১৫ এপ্রিল থেকে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই নিয়মে গাড়ি চলবে, তবে রবিবার এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

delhi car photo 2

উল্লেখ্য, বায়ু দূষণ কমাতে পরীক্ষামূলকভাবেদুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়েদুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির রাস্তায় জোড়-বিজোড় পদ্ধতির গাড়ি চলাচলের নির্দেশ দেয় কেজরিওয়াল সরকার। ফর্মুলা অনুযায়ী, যে সব গাড়ির নম্বর শেষ হচ্ছে এক, তিন, পাঁচ, সাতের মতো বিজোড় নম্বরে, সেগুলো দিল্লিতে পথে নামে শুধু বিজোড় সংখ্যার দিনে। ঠিক তেমনই, জোড় সংখ্যায় শেষ হচ্ছে যে সমস্ত গাড়ির নম্বর, তা পথে নামে জোড় সংখ্যার দিনে। সোম থেকে শনি, সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত জারি থাকে বিধিনিষেধ।

delhi public trasport

তবে এই ফর্মুলায় গাড়ি চলাকালেই ৬ জানুয়ারি জোড়-বিজোড় পদ্ধতি নিয়ে সরব হলো ভারতের উচ্চ আদালত। বায়ুদূষণ প্রতিরোধে পরীক্ষামূলক জোড়-বিজোড় ফর্মুলার গাড়ি চলাচল কেন এক সপ্তাহের বেশি অব্যাহত থাকবে ২ দিনের মধ্যে (৮ জানুয়ারির মধ্যে) তার ব্যাখ্যা চায় ভারতের হাইকোর্ট। জোড়-বিজোড় ফর্মুলার কারণে গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকায় জনগণকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উল্লেখ করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাছে এর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এই পদ্ধতি চালু করে দুষণের মাত্রা কতোটুকু কমেছে, শুক্রবারের মধ্যে তাও জানতে চাওয়া হয়। তবে ৮ তারিখের রায়ে আদালত জানায়, ভারতের রাজধানী দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে ‘জোড়-বিজোড়’ ফর্মুলার পরীক্ষার জন্য ১৫ দিন যথেষ্ট নয়। এর সময়সীমা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। দিল্লি হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানায়, দিল্লিতে যখন দূষণ অত্যাধিক হারে বেড়ে গিয়েছিল, সেই সময় ‘জোড়-বিজোড়’ ফর্মুলায় গাড়ি চালানো বিশেষ কার্যকর হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই আবারও জোড়-বিজোড় ফর্মুলা চালুর ঘোষণা এলো। সূত্র দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

/ইউআর/বিএ/