প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে নতুন দ্বার উন্মোচন হবে: তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফর হতে পারে চলতি মাসেই। এ সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। চীনের ছোংছিংয়ে পঞ্চম সিএমজি ফোরামে যোগ দিয়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সফর দুই দেশের সম্পর্কে ‘নতুন দ্বার উন্মোচন’ করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফর, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও গণমাধ্যম সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার সিএমজি’র বাংলা বিভাগের সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ায়। আগামী ২১ ও ২২ জুনের সফর শেষে ২৩ জুন চীন সফরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মরহুম রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ১৯৭৬ সালে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও একাধিকবার চীন সফর করেছেন। তাদের সময় দুই দেশের সম্পর্ক যেভাবে এগিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফরের মধ্য দিয়ে সেই সম্পর্ক আরও নতুন মাত্রা পাবে। আমরা আশা করি এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের নতুন নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।’

ছোংছিংয়ে আয়োজিত পঞ্চম সিএমজি ফোরামে অংশ নিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ফোরামকে সময়োপযোগী ও শিক্ষণীয় উল্লেখ করে গণমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই খাতে চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে চীন অত্যন্ত অগ্রসর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে চীনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে চাই। তথ্যপ্রযুক্তি, গণমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে চীন সরকার বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি গ্লোবাল ফোরাম গড়ে তুলতে পারে।’

তবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আশীর্বাদ হলেও ভবিষ্যতে এটি যেন ঝুঁকির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্য আরও গবেষণা ও নীতিগত প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে মনে করেন মন্ত্রী। দু’দেশের গণমাধ্যম সহযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফোরামে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদ। এ ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, গণমাধ্যম, থিংকট্যাংক এবং বহুজাতিক করপোরেশনসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ৩০০ প্রতিনিধি অংশ নেন।

সূত্র: সিএমজি