প্যারিস ও মুম্বাই হামলার মধ্যে সংশ্লিষ্টতা!


প্যারিস হামলার পর সতর্ক অবস্থানে পুলিশগত বছরের নভেম্বরে প্যারিসের সন্ত্রাসী হামলা ও ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ের হোটেলে হামলার মধ্যে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার প্রসিকিউটররা। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গ থেকে আটক হওয়া পাকিস্তানি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্টতা জানার চেষ্টা চলছে বলে জানান তারা। তবে এখন পর্যন্ত আটক হওয়া ওই পাকিস্তানির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এদিকে পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেছেন তারা এ ব্যাপারে কিছু জানেন না।
প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আটক হওয়া পাকিস্তানির পরিচয় জানতে তদন্ত চলছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই পাকিস্তানের কাছ থেকে অস্ট্রিয়া তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। প্যারিস ও সানডে টাইমসের সূত্রের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়, আটক হওয়া পাকিস্তানি নাগরিক সশস্ত্র সংগঠন লস্কর ই তৈয়বা ও লস্কর ই জাংভির একজন বোমা প্রস্তুতকারী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে হামলা চালিয়ে ১৬৬ জনকে হত্যার ঘটনায় ভারতের পক্ষ থেকে লস্কর ই তৈয়বাকেই দায়ী করা হয়ে থাকে।
মুম্বাইয়ের তাজ হোটেলে হামলার ছবি

গত ডিসেম্বরে আলজেরিয়ার এক নাগরিকসহ পাকিস্তানি ওই নাগরিক আটক হন। ফরাসি তদন্তকারীদের ধারণা, প্যারিস ও ব্রাসেলস হামলার দায় স্বীকারকারী সশস্ত্র সুন্নিপন্থী সংগঠন আইএসই হামলার জন্য ওই দুই ব্যক্তিকে ইউরোপে পাঠিয়েছিল।

অস্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ফেব্রুয়ারিতে গ্রিসে অভিবাসীবাহী যে নৌকায় করে প্যারিস হামলায় জড়িত দুই ব্যক্তি এসেছিলেন সেই নৌকায় আটক হওয়া দুই ব্যক্তিও ছিলেন। হামলায় জড়িতরা পার পেয়ে গেলেও এদের দুজনের কাছে সিরিয়ার ভুয়া পাসপোর্ট থাকার কারণে গ্রিক কর্তৃপক্ষ তাদের ২৫ দিন ধরে আটকে রেখেছিলেন। প্যারিস হামলার পর নভেম্বরের শেষ দিকে ওই দুই ব্যক্তি সালজবুর্গে পৌঁছান। পরে ১০ ডিসেম্বর অস্ট্রিয়ার পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

এদিকে পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন এক নিরাপত্তা কর্মকতা ডনকে বলেন তারা ‌আটক হওয়া পাকিস্তানির ব্যাপারে কিছু জানেন না। তিনি বলেন, ‘আটক হওয়া ব্যক্তি কে, কী তার পরিচয়, তার সংশ্লিষ্টতা কী সে ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। ওই ব্যক্তির ব্যাপারে আমরা একেবারেই অন্ধকারে আছি।’ সূত্র: ডন

/এফইউ/