ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে আট দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন এক ব্যক্তি। দীর্ঘ ও জটিল উদ্ধার অভিযানের পর নিরাপত্তারক্ষী হার্নান গিলকে জীবিত বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা।
২৪ জুন আঘাত হানা যমজ ভূমিকম্পে ভবনটি ধসে পড়ার পর প্রায় ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন গিল। পাঁচ দিনের বেশি সময় আগে তার অবস্থান শনাক্ত করা গেলেও বিপুল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিরাপদে তাকে বের করতে আরও কয়েক দিন লেগে যায়।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া এক চিলিয়ান দমকলকর্মী বলেন, এটি তার কর্মজীবনের সবচেয়ে জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি।
কোস্টারিকার রেড ক্রসের প্যারামেডিক অ্যালান মাদ্রিগাল জানান, রোববার ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে গিলের ক্ষীণ কণ্ঠে সাহায্যের আবেদন শুনতে পান তিনি। প্রথমে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারেননি। পরে সহকর্মীও একই শব্দ শুনলে নিশ্চিত হন যে ধ্বংসস্তূপের নিচে একজন জীবিত রয়েছেন।
এরপরই শুরু হয় তাকে উদ্ধারের প্রাণান্তকর চেষ্টা।
জানা গেছে, ভূমিকম্পের সময় রাজধানীর কাছে কাতিয়া লা মার এলাকার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিংমলের পাশের পার্কিং এলাকার বেজমেন্টে একটি ছোট কংক্রিটের নিরাপত্তা বুথে দায়িত্ব পালন করছিলেন গিল। ধসের সময় বুথটি তার চারপাশে এক ধরনের সুরক্ষাবলয় তৈরি করায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
উদ্ধারকর্মীদের ভাষ্য, গিল জানিয়েছেন তার শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত লাগেনি। ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকাকালে তাকে পানি সরবরাহ করা হয় এবং শিরায় স্যালাইনও দেওয়া হয়।
ভেনেজুয়েলা, চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে এ অভিযানে অংশ নেয়। উদ্ধারকাজের সময় তৈরি করা প্রবেশপথ কয়েকবার ধসে পড়ায় অভিযান আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অবশেষে ছোট একটি ক্যামেরার মাধ্যমে গিলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে তাকে নিরাপদে বের করে আনা হয়।
২৪ জুনের ওই যমজ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।