ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল টিমার-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ। তার দাবি, টিমার তার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কারণেই তিনি অনাস্থার মুখে পড়েছেন। মঙ্গলবার রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় এক অনুষ্ঠানে মাইকেল টিমার-এর এমন অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন দিলমা রুসেফ।
অর্থনৈতিক মন্দা আর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘাটতি লুকানোর চেষ্টার অভিযোগে ব্রাজিলের পার্লামেন্টের (কংগ্রেস) নিম্নকক্ষের একটি কমিটিতে এরইমধ্যে প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। ৬৫ সদস্যের এ কমিটিতে প্রস্তাবটি ৩৮-২৭ ভোটে পাস হয়েছে। পরবর্তী ধাপে ভোট হবে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে। আগামী ১৭ অথবা ১৮ এপ্রিল এ ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে।
কংগ্রেশনাল কমিটি তাদের মতামত জানানোর পর দিলমা বলেন, তাকে উৎখাত করতে একটা চক্র ষড়যন্ত্র করছে। আর এই ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল টিমার একজন।
দিলমা বলেন, গত সোমবার (১১ এপ্রিল) তার হাতে একটি অডিও বার্তা এসেছে। এতে তাকে উৎখাতের পর টিমার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন বলে স্বীকার করেছেন। এ সময় তিনি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রাজিলের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দিলমা রুসেফের বিরুদ্ধে গৃহীত অভিশংসন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তিনি ২০১৪ সালে পুনর্নির্বাচনের সময় বাজেট আইন ভঙ্গ করে সরকারি হিসাবে কারসাজি করেছিলেন। আসছে ১৭ কিংবা ১৮ তারিখ কংগ্রেসের পুরো নিম্নকক্ষ অভিশংসন প্রস্তাবে ভোট দিতে যাচ্ছে। ওইদিন যদি প্রস্তাবের পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পড়ে তবে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সিনেটে পাঠানো হবে।
প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবটি ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট কংগ্রেস কমিটিতে ৩৮-২৭ ভোটে পাস হয়। আর এটি প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফের জন্য এক বড় আঘাত।
তবে এখনই ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হচ্ছে না রুসেফকে। ৫১৩ সদস্য বিশিষ্ট নিম্নকক্ষে অভিশংসন প্রস্তাবের পক্ষে ৩৪২টি ভোট লাগবে। আর তা আটকে দিতে লাগবে ১৭২টি ভোট। মতামত জরিপে দেখা গেছে, প্রস্তাবের পক্ষে রয়েছেন ২৯২ জন, বিপক্ষে রয়েছেন ১১৫ জন এবং ১০৬ জন অনির্ধারিত।
নিম্নকক্ষে সমর্থন অর্জন করতে পারলে প্রস্তাবটি যাবে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে। প্রস্তাবটি সিনেটে গেলে তার ওপর বিতর্কের জন্য ১৮০দিন প্রেসিডেন্ট বরখাস্ত থাকবেন। তখন বিরোধী দল পিএমডিবি-র নেতা ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। অভিশংসন প্রস্তাবটি সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন পাওয়ার পরই কেবল প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ স্থায়ীভাবে পদচ্যুত হবেন।
রুসেফের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হলে ব্রাজিলের ইতিহাসে ১৯৯২ সালের পর এটি হবে প্রথম এমন অভিশংসনের ঘটনা। ১৯৯২ সালে ফার্নান্দো কলার ডি মেলোকে অভিশংসন করার কিছুক্ষণ পূর্বেই তিনি পদত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, ব্রাজিলে সাংবিধানিক আইন অনুযায়ী কোনও প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনতে হলে, প্রথমে তাকে কংগ্রেস কমিটিতে পাস হতে হয়। এরপর ওই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয় পার্লামেন্ট বা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে।
ওই অভিশংসনের মূলে রয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্রাজিলের সর্ববৃহৎ তদন্ত, যার একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেট্রোবাস কেলেঙ্কারি। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, বিলিয়ন ডলারের ঘুষ লেনদেন হয়েছে। আর তাতে কেবল ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্যরাই জড়িত নন, বরং যারা অভিশংসনের পক্ষে আওয়াজ তুলছেন তাদের নামও রয়েছে।
ব্রাজিলের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার এদুয়ার্দো কুনহা, যিনি রুসেফের অভিশংসন প্রস্তাবের সবচেয়ে বড় সমর্থক, তিনিও ওই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, সোমবার রুসেফ এবং তার ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমারের বিরুদ্ধে বিতর্ক আরেক দফা বৃদ্ধি পায়, যখন হোয়াটস অ্যাপ-এ তাদের কথোপকথনের একটি অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়ে পড়ে। যেখানে তেমার ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে একটি ঐক্য সরকারের প্রস্তাব দেন রুসেফকে। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা।
/এমপি/বিএ/