বিশ্বের অনেক পাহাড়ই তাদের উচ্চতা বা বরফাবৃত শৃঙ্গের জন্য বিখ্যাত। তবে অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি পাহাড় শতাব্দী ধরে পর্যটকদের মুগ্ধ করে চলেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রাকৃতিক কারণে। বিশালাকার এই বেলেপাথরের পাহাড়টি সারাদিনের আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রঙ পরিবর্তন করে। আয়ার্স রক নামেও পরিচিত এই অনন্য প্রাকৃতিক নিদর্শনটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম চেনা আকর্ষণ।
বাস্তবে পাহাড়টি শারীরিকভাবে রঙ পরিবর্তন না করলেও এর খনিজ উপাদান এবং সূর্যের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে এক চমৎকার দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি হয়। বেলেপাথরে থাকা আয়রন বা লোহা সময়ের সঙ্গে জারিত হয়ে পাহাড়টিকে একটি লালচে আভা দেয়, যা সূর্যের আলোর কোণ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন রূপ নেয়। যেমন সূর্যোদয়ের সময় হালকা গোলাপি, সকালে উজ্জ্বল কমলা, দুপুরে গাঢ় মরচে-লাল এবং সূর্যাস্তের সময় বেগুনি ও গাঢ় লালচে রঙের রূপ ধারণ করে এই পাহাড়।
তবে উলুরু কেবল একটি ভূতাত্ত্বিক বিস্ময়ই নয়, এটি স্থানীয় আদিবাসী আনাঙ্গু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি স্থান। হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলে বসবাস করা আনাঙ্গু জনগোষ্ঠীর প্রাচীন সাংস্কৃতিক গল্প, ঐতিহ্য, শিলাশিল্প ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে এই পাহাড়ের গভীর সংযোগ রয়েছে। ফলে এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের স্থানীয় রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উৎসাহিত করা হয়।
উলুরু ভ্রমণের জন্য মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, কারণ তখন আবহাওয়া বেশ আরামদায়ক থাকে। দর্শনার্থীরা এখানে উলুরু বেস ওয়াক, সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দেখা, জাতীয় পার্কের কালচারাল সেন্টার পরিদর্শন এবং কাছেই অবস্থিত কাতা জুতা পাহাড় ঘুরে দেখতে পারেন। আকাশপথে আয়ার্স রক এয়ারপোর্ট হয়ে কিংবা অ্যালিস স্প্রিংস থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টার সড়ক পথ পাড়ি দিয়ে এখানে পৌঁছানো যায়। প্রকৃতির এই অনন্য দৃশ্য ও গভীর সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের কারণে এটি বিশ্বজুড়ে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক অবিস্মরণীয় গন্তব্য।
সূত্র: এনডিটিভি