নতুন সরকারে কি বদলাচ্ছে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার নীতি?

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। নতুন মন্ত্রিসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (হোম সেক্রেটারি) হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে শাবানা মাহমুদকে। তার এই দায়িত্বে বহাল থাকাকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন নীতিতে ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি ড্যাজলিং ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলের প্রগতিশীল ও বামপন্থী অংশের আপত্তি সত্ত্বেও শাবানা মাহমুদের নেতৃত্বে বৈধ অভিবাসন ও আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আইএলআর নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

শাবানা মাহমুদের অধীনে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। দীর্ঘদিনের পাঁচ বছরের ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) ব্যবস্থার পরিবর্তে ২০২৬ সালের শুরু থেকে প্রস্তাবিত 'আর্নড সেটেলমেন্ট' মডেল চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার।

এতে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের স্কিলড ওয়ার্কার এবং তাদের পরিবারের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, স্কিলড ওয়ার্কার ও গ্র্যাজুয়েট ভিসাধারীসহ অধিকাংশ অর্থনৈতিক অভিবাসীকে স্থায়ী বসবাসের জন্য পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তুলনামূলক কম আয়ের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই সময় ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

তবে যাদের বার্ষিক আয় ৫০ হাজার পাউন্ডের বেশি অথবা যারা স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরত, তারা তুলনামূলক দ্রুত স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

এ ছাড়া স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ অপরাধমুক্ত রেকর্ড, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ইংরেজি ভাষায় বি২ দক্ষতার প্রমাণ, নিয়মিত কর পরিশোধ এবং কোনো বিরতি ছাড়া বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থানের শর্ত রাখা হচ্ছে।

স্টুডেন্ট ভিসা ও আশ্রয় নীতিতেও কড়াকড়ি

পরিবর্তন শুধু ওয়ার্ক ভিসায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। স্টুডেন্ট ভিসা ও আশ্রয় ব্যবস্থাতেও নতুন বিধিনিষেধ আনা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশ থেকে আশ্রয়ের আবেদন বেড়ে যাওয়ায় হোম অফিস 'ভিসা ব্রেক' ব্যবস্থা কার্যকর রেখেছে। এর আওতায় আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের নাগরিকদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন কোর প্রোটেকশন মডেল অনুযায়ী, স্বীকৃত শরণার্থীদের প্রাথমিক সুরক্ষার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে ৩০ মাস করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় পরপর তাদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এই ব্যবস্থায় স্থায়ী আবাসনের জন্য ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

অপরদিকে, স্কিলড ওয়ার্কার স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে প্রতিটি বেতন পরিশোধের তথ্য আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে

মন্ত্রিসভায় চমক

অ্যান্ডি বার্নহামের নতুন মন্ত্রিসভার সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো জন হিলিকে অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার) নিয়োগ দেওয়া। এর আগে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে মতবিরোধের জেরে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ ছেড়েছিলেন।

নতুন মন্ত্রিসভায় এড মিলিব্যান্ডকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, লুইস হেইকে প্রথম রাষ্ট্রসচিব ও ক্যাবিনেট অফিসমন্ত্রী করা হয়েছে। অ্যাঞ্জেলা রায়নার পুনরায় গৃহায়নমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হয়েছেন ওয়েস স্ট্রিটিং।

অপরদিকে, সাবেক চ্যান্সেলর রেচেল রিভস, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, সাবেক বিচারমন্ত্রী লর্ড হারমার এবং সাবেক ওয়েলস সচিব জো স্টিভেন্স নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।

জুনিয়র মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টনের ঘোষণা এখনও বাকি। তবে শাবানা মাহমুদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বহাল রাখার মধ্য দিয়ে বার্নহাম সরকার অভিবাসন নীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখারই ইঙ্গিত দিয়েছে।