ভারতের খরা যখন সর্বোচ্চ আদালতে

ভারতের খরাচলমান খরা নিয়ে এবার সরব হলো ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। ভারতের দশটি রাজ্যে খরা চললেও কেন সেখানে খরা ঘোষণা করে তহবিল প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না তা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি মদন বি লোকুর ও বিচারপতি এন ভি রামানার বেঞ্চ এ প্রশ্ন করেন। একইসঙ্গে খরা কবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করতে কেন্দ্রীয় সরকোরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, খরা ঘোষণা করা ছাড়াএমজিএনআরইজিই (মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট) প্রকল্পের আওতায় তহবিল প্রদান করা সম্ভব নয়। আর খরা ঘোষণা কেবল রাজ্য সরকারই করতে পারে।
আরও পড়ুন: ‘ভারত কি কেবল হিন্দুদের?’

ভারতের দশটি রাজ্য যখন খরার কারণে বিপর্যস্ত তখন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য তহবিল প্রদানে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় আনা হবে না মঙ্গলবার তা জানতে চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। কোনও রাজ্যে এখন পর্যন্ত খরা ঘোষণা করা হয়নি উল্লেখ করে উদ্বেগ জানান বিচাপতিরা।
আরও পড়ুন: মৃত্যুপথযাত্রী নাতিকে শেষ বিদায় জানাতে বিমান ঘুরিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন পাইলট
কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয় যে, তাদের হাত পা বাঁধা এবং তারা রাজ্য সরকারকে খরা ঘোষণার জন্য বাধ্য করতে পারেন না, কারণ খরা দুর্গত এলাকাগুলো রাজ্য সরকারের আওতাধীন। এমন অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট জানতে চায়, রাজ্যগুলোতে যখন খরা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং খরার কারণে লোকজনকে ভুগতে হচ্ছে, সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার কিভাবে হস্তক্ষেপ না করে ও কিছু করার নেই বলে থাকতে পারে?
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আইনজীবী পিএস নারসিমহা আদালতকে বলেন, জাতীয় দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা আইনে খরার উল্লেখ নেই। তবে ফসলের ক্ষতিজনিত কারণের আওতায় খরাকে সামলানো যেতে পারে।

এদিকে সর্বোচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে খরার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের সংখ্যার ব্যাপারে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে ওইসব এলাকায় বরাদ্দ এবং জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ে দুযোর্গকবলিত মানুষের জন্য ত্রাণজনিত ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে।  আরও পড়ুন: অবশেষে নারীদের জন্য সেই মন্দিরের দরজা উন্মুক্ত

আদালতের জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে আসছে ১৯ এপ্রিল বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর এরপরই এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

/এফইউ/বিএ/