প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা দুর্নীতির প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন ছাত্র আন্দোলনে কার্যত কাঁপছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরে অব্যাহত এই বিক্ষোভ ঘিরে নতুন করে সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় পুরো শহরে জরুরি কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রশাসন। পুলিশি সতর্কতার ভিত্তিতে সপ্তাহান্ত (উইকেন্ড) জুড়ে দিল্লির সব মদের দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
সাধারণ সময়ে দিল্লির মদের দোকানগুলো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কোনও আগাম ঘোষণা ছাড়া ৮টার পর দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে হঠাৎ করে অ্যালকোহল কিনতে গিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে পড়েন গ্রাহকেরা।
দিল্লি সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র বিক্ষোভের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দিল্লি পুলিশ বিশেষ তথ্য ও পরামর্শ দিয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সপ্তাহান্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” মূলত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ রাখতেই পুলিশের এই আগাম প্রস্তুতি বলে মনে করা হচ্ছে।
সহিংস রূপ নিচ্ছে রাজপথের আন্দোলন
নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং একাধিক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বেশ কিছু দিন ধরেই মধ্য দিল্লি উত্তপ্ত।
গত ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা ‘পার্লামেন্ট মার্চ’ ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ, যা একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। এতে বহু সাধারণ শিক্ষার্থী, আন্দোলনকারী এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফাস্ট ট্র্যাকিং কোর্টের আশ্বাস দেওয়া এবং এনটিএ’র ৪৭ জন কর্মকর্তাকে ছাঁটাই করার পরও শান্ত হননি আন্দোলনকারীরা। শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি পদত্যাগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনড় থেকে রাজপথ আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তারা, যার জের ধরে পুরো দিল্লিতে জারি রয়েছে চরম নিরাপত্তা নজরদারি।
সূত্র: এনডিটিভি/দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস