ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে শারীরিক এই অসুস্থতা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা তাদের আন্দোলনকে বিন্দুমাত্র দমিত করতে পারবে না বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক ভিডিও বার্তায় দিপকে জানান, তিনি গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ বোধ করছিলেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অসুস্থতা সত্ত্বেও দেশজুড়ে আন্দোলন টিকিয়ে রাখার জন্য সিজেপি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন লক্ষ্যে পৌঁছাবেই।’
ভিডিও বার্তায় দিপকে বলেন, ‘আপনারা জানেন, গত কয়েক দিন ধরে আমি অসুস্থ। পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে এবং আমার টাইফয়েড ধরা পড়েছে।’
দিপকে জানান, তিনি প্রতিদিন শিরায় ওষুধ (আইভি ড্রিপ) নিচ্ছেন এবং তার চিকিৎসা চলছে। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা চলছে। আমি প্রতিদিন আইভি ড্রিপ নিচ্ছি। তবে দেশজুড়ে যারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছেন, সেই সব ককরোচদের (সমর্থকদের) আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
আন্দোলনকে দেশজুড়ে বিস্তৃত করার জন্য সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়ে দিপকে বলেন, ‘এই আন্দোলনকে এত বড় সফলতায় রূপ দেওয়ার জন্য আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন। আমি অত্যন্ত নিশ্চিত যে, আমরা যদি এভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাই, তবে আমরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আদায় করতে পারবো।’’
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শুরু হওয়া সিজেপি-র এই আন্দোলনে পরীক্ষা পদ্ধতিতে জবাবদিহিতা, নিয়োগ ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানানো হচ্ছে। এই আন্দোলনটি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সমর্থন লাভ করে। ওয়াংচুক গত ২৮ জুন এই আন্দোলনে যোগ দেন এবং টানা ২৬ দিন অনশন পালন করেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর ওয়াংচুক তার অনশন ভঙ্গ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা দেওয়া হবে না, সংসদে পরীক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।
তবে ওয়াংচুক অনশন ভঙ্গ করলেও সিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।