ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, বোকো হারামের পক্ষ থেকে নাইজেরিয়ার সরকারের কাছে পাঠানো ভিডিওটিতে ১৫ জন নারীকে বোরকা পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। ভিডিওতে ওই নারীরা নিজেদেরকে ২০১৪ সালে চিবুকের একটি স্কুল থেকে অপহরণের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী বলে দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন: নারী ও শিশু আত্মঘাতীর ব্যবহার বাড়িয়েছে বোকো হারাম: জাতিসংঘ
ভিডিওতে দেখা যাওয়া নারীদের বেশ কয়েকজনকে এরইমধ্যে তাদের বাবা-মা শনাক্ত করতে পেরেছেন। নতুন প্রকাশিত ভিডিওটি ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বড় দিনে ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে অপহৃত শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধারের জন্য সশস্ত্রদের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করতে নাইজেরীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অপহৃতরা বলেছেন, তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা হচ্ছে, তবে তারা পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চান। রিফকাতু আয়ুবা ও ম্যারি ইশায়া নামের দুই মা তাদের মেয়েদের শনাক্ত করেছেন। আর ইয়ানা গালাং নামের আরেক মা নিখোঁজ ৫ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছেন। গালাং বলেন, ‘অবশ্যই তারা আমাদের সন্তান। আমরা আমাদের মেয়েদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’
আরও পড়ুন: ক্যামেরুনে বিস্ফোরকসহ গ্রেফতার হওয়া নারী নাইজেরিয়ার অপহৃত শিক্ষার্থী!
দুই বছর আগে নাইজেরিয়ার চিবুক থেকে ২৭৬ জন শিক্ষার্থী অপহৃত হওয়ার পর তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্রিং ব্যাক আওয়ার গার্লস হ্যাশট্যাগে প্রচারণা শুরু হয়। বোকো হারামের কাছ থেকে পরে ৫৭ জন শিক্ষার্থী পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও এখনও ২১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজাতে অপহৃত শিক্ষার্থীদের সন্ধান লাভের জন্য সরকারের তৎপরতা আরও জোরদারের দাবিতে বাবা-মায়েরা বিক্ষোভ করতে যাচ্ছেন। নিজস্ব সংবাদদাতার বরাতে বিবিসি জানায়, আগের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তারা অপহৃতদের উদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছেন। আর নতুন প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধান পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালাচ্ছেন না তারা।
আরও পড়ুন: নাইজারে বোকো হারামের হামলায় ৬ সেনা নিহত
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে অন্তত ২ হাজার শিশুকে অপহরণ করেছে বোকো হারাম। এদের মধ্যে অনেককে যৌনদাসী, যোদ্ধা ও আত্মঘাতী হামলাকারী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/বিএ/