আগামী ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলবে। যার ফলে ইউরোপের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল কিছু সময়ের জন্য অন্ধকারে ডুবে যাবে। স্থানভেদে এই স্থায়িত্ব হবে এক থেকে প্রায় দুই মিনিট। ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর এটিই পৃথিবীতে প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ এবং ১০০ বছরেরও বেশি সময় পর এই প্রথম স্পেনের ওপর দিয়ে এটি অতিক্রম করবে।
সূর্যগ্রহণের মূল ছায়াটি আর্কটিক থেকে শুরু হয়ে পূর্ব গ্রিনল্যান্ড ও পশ্চিম আইসল্যান্ড অতিক্রম করবে। এরপর পর্তুগালের মন্টেসিনহো ন্যাশনাল পার্কের ছোট্ট একটি অংশ ছুঁয়ে পশ্চিম থেকে পূর্বে উত্তর স্পেন অতিক্রম করবে। স্পেনের লিওন, বার্গোস, ভ্যালাডোলিড, স্যান্টান্ডার, বিলবাও, সারাগোসা, ভ্যালেন্সিয়া ও পালমা এলাকায় কেন্দ্রীয় ইউরোপীয় গ্রীষ্মকালীন সময় রাত ৮ টা ৩২ থেকে ৮ টা ৩৩ মিনিটে গ্রহণটি সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছাবে। এর আগে গ্রিনিচ মান সময় বিকাল ৫ টা ৪৮ মিনিটে আইসল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের রেইকিয়াভিক ও ইসাফজোর্দুরে এটি দেখা যাবে, তবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দেখা যাবে লাত্রাবিয়ার্গ থেকে।
স্পেন ছাড়া ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার অন্যান্য স্থানে এটি আংশিক দেখা যাবে। ডাবলিনে ৯৪ শতাংশ, প্যারিসে ৯২ শতাংশ এবং লন্ডনে ৯১ শতাংশ আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে। উত্তর আমেরিকার নিউ ইয়র্কে মাত্র ৯ শতাংশ, ওয়াশিংটন ডিসিতে ৪ শতাংশ এবং নিউফাউন্ডল্যান্ডের সেন্ট জনসে উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ ৫৩ শতাংশ দৃশ্যমান হবে। দক্ষিণ এশিয়ার সময় গভীর রাতে হওয়ায় বাংলাদেশসহ অঞ্চলটি থেকে এটি দেখা যাবে না।
২০২৪ সালের সূর্যগ্রহণের সঙ্গে এবারের ঘটনার দুটি বড় পার্থক্য রয়েছে। প্রথমত, চন্দ্রগ্রহণের দিন চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকায় চাঁদকে স্বাভাবিকের চেয়ে বড় দেখাবে, যা গ্রহণের স্থায়িত্ব কিছুটা বাড়িয়ে দেবে। দ্বিতীয়ত, একই রাতে পারসিডস উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ রূপ দেখা যাবে। অর্থাৎ সূর্যাস্তে সূর্যগ্রহণ দেখার পর পুরো আকাশ উল্কাবৃষ্টিতে ছেয়ে যাবে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা তাদের ইউটিউব ও ওয়েব টিভিতে সময় সন্ধ্যা ৭ টা ৩০ থেকে রাত ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। স্পেনের তেরুয়েলে অবস্থিত অবজারভেটরিয়ো অ্যাস্ট্রোফিসিকো দে জাভালামব্রে থেকে মূল সম্প্রচারটি হবে, যেখানে রাত ৮ টা ৩১ মিনিট থেকে ১ মিনিট ২১ সেকেন্ড স্থায়ী হবে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ। মেঘলা আকাশের ঝুঁকি এড়াতে লিওন ও ফ্রোমিস্তা থেকেও ব্যাকআপ ফিড রাখা হবে।
সূত্র: উইয়ন