যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা আবারও শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানকে আলোচনায় ফেরার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জুনে সই হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অধীনে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে—এমন প্রতিবেদন সঠিক নয়।
তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে যা ছিল, তা হলো যুদ্ধের অবসান; যুদ্ধবিরতি নয়। যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে এবং আবারও যুদ্ধ শুরু হয়েছে। তাই ৬০ দিনের কোনো যুদ্ধবিরতি ছিল না, যেটির মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।’
আরাগচি জানান, সমঝোতায় উল্লেখ করা ৬০ দিন ছিল চূড়ান্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ নয়।
তিনি বলেন, ‘কাতার ও পাকিস্তান উভয়েই আমাদের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান ও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব আলোচনা ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনও আলোচনার বিষয় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে আলোচনা মূলত কারিগরি বিষয়কেন্দ্রিক। এর লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নির্ধারণ করা। আগের নৌপথগুলো এখন আর উপযোগী নয় বলেও জানান তিনি।
আরাগচি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে একটি অস্থায়ী নৌপথ নির্ধারণ করছি, যা পরে স্থায়ী নৌপথে পরিণত হবে।’ এতে ইরান ও সংশ্লিষ্ট দেশের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও যুক্ত রয়েছেন। আলোচনা শিগগিরই শেষ হতে পারে বলেও জানান তিনি।
তবে নৌপথ নির্ধারণের বিষয়ে চলমান কারিগরি আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি এক করে দেখা উচিত নয় বলে সতর্ক করেন আরাগচি।
তিনি বলেন, ‘নৌপথ নির্ধারিত হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে কি না, তা নির্ভর করবে আরও কিছু শর্ত পূরণের ওপর। এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে পূরণ করতে হবে।’
ইরানের এ বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আনাদলু